অনাস্থা বৈঠকের আগেই ইস্তফা! জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান পদ ছাড়লেন সৈকত চট্টোপাধ্যায়
জলপাইগুড়ি: অনাস্থা ভোটাভুটির আগেই জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সৈকত চট্টোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট অনাস্থা বৈঠক ঘিরে যখন পুরসভায় রাজনৈতিক টানাপোড়েন চরমে, তখনই চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
জানা গিয়েছে, গত ৩০ জুলাই সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ৯ জন তৃণমূল কাউন্সিলর অনাস্থা প্রস্তাব আনেন। জলপাইগুড়ি পুরসভায় মোট ২৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে তৃণমূলের ২২ জন কাউন্সিলর রয়েছেন। বাকি তিনজনের মধ্যে দু’জন কংগ্রেস এবং একজন সিপিএমের কাউন্সিলর।
অনাস্থা প্রস্তাবের পর থেকেই জলপাইগুড়ি পুরসভায় রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়। ২৭ আগস্ট আস্থা ভোটের দিন নির্ধারিত ছিল। তার আগেই চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ায় ভোটাভুটির পরিস্থিতি নতুন মোড় নিল।
এর আগে প্রায় ২২ দিন পুরসভায় অনুপস্থিত থাকার পর গত ২৪ আগস্ট পুরসভায় ফিরেছিলেন সৈকত চট্টোপাধ্যায়। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, পারিবারিক কারণে বাইরে ছিলেন এবং পুরসভার নাগরিক পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাজ করছেন।
সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পুরসভার কাজকর্ম এবং বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ উঠলেও, তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা মেনে নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
চেয়ারম্যান পদ থেকে তাঁর ইস্তফার পর এখন জলপাইগুড়ি পুরসভার পরবর্তী চেয়ারম্যান কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। পুরসভার রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে যায়, সেদিকেই এখন নজর।
উল্লেখ্য, সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে। তদন্ত বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া তাঁকে কোনও অনিয়মে দায়ী করা হচ্ছে না।
