ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের অফিসে বিলবোর্ড কাণ্ড, উত্তেজনার পর গ্রেফতার ১৩
কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে বিলবোর্ড সরানোকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল। কলকাতা পুরসভা ও পুলিশের যৌথ অভিযানের সময় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের তর্ক-বিতর্ক ও ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত, ক্যামাক স্ট্রিটের ৯ নম্বর বাড়িতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের ছাদে থাকা তৃণমূলের একটি বড় বিলবোর্ড সরানোকে কেন্দ্র করে। কলকাতা পুরসভার দাবি, ওই বিলবোর্ড ও তার কাঠামো প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই বসানো হয়েছিল। পুলিশের অভিযোগের ভিত্তিতেই পুরসভার বিজ্ঞাপন দফতর থেকে সেটি সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে পুরসভার কর্মীরা অফিসে পৌঁছলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনাস্থলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। বিলবোর্ড সরানোর বৈধতা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে পরিস্থিতি ধস্তাধস্তির পর্যায়ে পৌঁছয়।
পুলিশ ও পুরকর্মীরা শেষ পর্যন্ত বাড়ির ছাদে পৌঁছে গ্যাস কাটার ও অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহার করে বিলবোর্ডের কাঠামো খুলে দেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে অফিস চত্বরে নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হয়।
এদিকে, ঘটনার পর কলকাতা পুলিশ তিনটি পৃথক FIR দায়ের করেছে। পুলিশ সূত্রে অভিযোগ, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং পুলিশ ও পুরকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এই মামলাগুলিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়-সহ একাধিক ব্যক্তির নাম রয়েছে। ঘটনায় মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, পর্যাপ্ত বৈধ নথি না দেখিয়েই পুলিশ ও পুরকর্মীরা অফিসে ঢোকার চেষ্টা করেছিল এবং ঘটনাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আইনি পথে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
ঘটনাকে ঘিরে কলকাতার রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ২৮ আগস্ট তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের কর্মসূচির ঠিক আগের দিন এই ঘটনা ঘটায় রাজনৈতিক মহলে এর আলাদা তাৎপর্য তৈরি হয়েছে।
তবে বিলবোর্ডটি আদৌ অনুমোদিত ছিল কি না এবং অভিযানের সময় আইনভঙ্গ হয়েছিল কি না—তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেই বিষয়গুলি তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
নিউজ বাংলা লাইভ ২৪ | কলকাতা
