‘তৃণমূলকে গণতান্ত্রিকভাবে খতম’, ‘সিপিএমকে উঠতে দেব না’—মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য ঘিরে প্রশ্ন
কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেস এবং সিপিএমকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি তৃণমূলকে ‘গণতান্ত্রিকভাবে খতম’ করার পাশাপাশি সিপিএম যাতে ফের রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠতে না পারে, সেই বার্তাও দেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “দুটো কাজ তো আমার একদম… সবাইকে শপথবাক্য পাঠ করাচ্ছি, তৃণমূলকে একদম গণতান্ত্রিকভাবে খতম। আর সিপিএম যাতে উঠতে না পারে।” তাঁর বক্তব্যের এই অংশই রাজনৈতিক মহলে বিশেষভাবে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, কর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক আলোচনা এবং সরকারের কাজ মানুষের কাছে তুলে ধরার প্রসঙ্গের মধ্যেই তিনি দলের আদর্শ ও রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেন। এরপরই তৃণমূল ও সিপিএমকে নিয়ে ওই মন্তব্য করেন।
‘গণতান্ত্রিকভাবে খতম’—শব্দচয়ন ঘিরেই প্রশ্ন
একজন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর মুখে কোনও রাজনৈতিক দলকে ‘খতম’ করার কথা উঠে আসা স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। যদিও শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বক্তব্যে ‘গণতান্ত্রিকভাবে’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন, তবু প্রশ্ন উঠছে—গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে ‘খতম’ বা কোনও দলকে উঠে দাঁড়াতে না দেওয়ার মতো ভাষা কতটা গ্রহণযোগ্য?
গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব ও মানুষের ভোটের মাধ্যমে তাদের জনপ্রিয়তা নির্ধারিত হয়। সেই জায়গা থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তৃণমূলকে ঘিরে বার্তা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অংশ তৃণমূলকে ঘিরে। একসময় তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে রাজনীতিতে থাকা শুভেন্দু বর্তমানে বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী। ফলে তৃণমূলকে সরাসরি রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্য নিয়ে তাঁর এমন মন্তব্য রাজনৈতিক লড়াইয়ের তীব্রতাকেই সামনে আনছে।
অন্যদিকে, সিপিএমকে নিয়েও তাঁর অবস্থান স্পষ্ট। তিনি চান না বাম দলটি ফের রাজ্যের রাজনীতিতে শক্তিশালী হয়ে উঠুক। অর্থাৎ, তাঁর বক্তব্যে তৃণমূল এবং বাম—দুই রাজনৈতিক শিবিরকেই বিজেপির রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করার বার্তা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বাড়ার সম্ভাবনা
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল, বিজেপি এবং বামেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দীর্ঘদিনের। সেই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিতে পারে।
বিশেষ করে ‘তৃণমূলকে গণতান্ত্রিকভাবে খতম’ এবং ‘সিপিএম যাতে উঠতে না পারে’—এই দুই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলির প্রতিক্রিয়া কী হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
তবে এই প্রতিবেদনে উদ্ধৃত বক্তব্যগুলি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিজস্ব রাজনৈতিক বক্তব্য। বক্তব্যের রাজনৈতিক মূল্যায়ন নিয়ে বিভিন্ন দলের অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া সামনে এলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।
