ফাঁকিবাজি রুখতে কড়া পদক্ষেপ, কোচবিহার পুরসভার দুই কর্মীর বেতন বন্ধ
কোচবিহার: পুরসভায় কর্মসংস্কৃতি ফেরাতে এবার কড়া পদক্ষেপ কোচবিহার পুর প্রশাসনের। দায়িত্বে গাফিলতি এবং নিয়মিত কাজে না আসার অভিযোগে ইতিমধ্যেই দুই চুক্তিভিত্তিক পুরকর্মীর বেতন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, আগামী দিনেও কাজে গাফিলতি ধরা পড়লে আরও কর্মীর বিরুদ্ধে একই ধরনের পদক্ষেপ করা হতে পারে।
জানা গিয়েছে, কোচবিহার সদরের মহকুমাশাসক তথা পুর প্রশাসক গোবিন্দ নন্দী দায়িত্ব নেওয়ার পর পুরসভার কর্মীদের কাজের ধরন ও উপস্থিতি নিয়ে নজরদারি শুরু করেছেন। পুরসভা সূত্রের দাবি, যে দুই কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাঁরা দু’জনই চুক্তিভিত্তিক কর্মী। তাঁদের মধ্যে একজন পুরসভার বাসস্ট্যান্ডে এবং অন্যজন পুরসভার স্কুলে কর্মরত ছিলেন।
পুরসভা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ওই দুই কর্মীর বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগ ওঠার পর একাধিকবার তাঁদের কাছে জবাব চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁদের দেওয়া জবাবে কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট হয়নি বলে দাবি পুরসভার। এরপর তাঁদের সতর্ক করা হলেও কাজে বিশেষ পরিবর্তন হয়নি। শেষ পর্যন্ত দু’জনের বেতন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বেতন বন্ধ হওয়ার পর তাঁদের মধ্যে একজন চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি পুর প্রশাসক তথা সদর মহকুমাশাসক। তবে পুরসভার অন্দরমহলের খবর, কর্মীদের দায়িত্বে গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। আরও কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধেও নজরদারি চলছে বলে পুরসভা সূত্রের দাবি।
অক্টোবর পর্যন্ত চলবে নজরদারি
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, কাজে গাফিলতির অভিযোগ থাকা কর্মীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। আগামী অক্টোবর মাস পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলার কথা। সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সতর্ক করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে তাঁদের কাছে জবাবও চাওয়া হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে ভবিষ্যতে বেতন বন্ধের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
অভিযোগ রয়েছে, পূর্ববর্তী পুরবোর্ডের সময়ে কয়েকজন প্রভাবশালী কাউন্সিলরের মাধ্যমে একাংশ কর্মী নিয়োগ পেয়েছিলেন। পুরসভা সূত্রের দাবি, তাঁদের কেউ কেউ নিয়মিত পুরসভার কাজে যুক্ত না থেকে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘোরাফেরা করতেন। সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখতেই বর্তমানে কর্মীদের কাজের বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
কর্মসংস্কৃতি ফেরানোই লক্ষ্য
উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়ার পর গত ২৭ জুলাই পুর প্রশাসকের দায়িত্ব নেন সদর মহকুমাশাসক গোবিন্দ নন্দী। দায়িত্ব নেওয়ার পরই পুরসভায় কর্মসংস্কৃতি ফেরানোর বিষয়ে কর্মীদের সতর্ক করেছিলেন তিনি। এবার সেই বার্তার পরই দুই চুক্তিভিত্তিক কর্মীর বেতন বন্ধের ঘটনায় পুরসভার অন্দরে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের বার্তা আরও স্পষ্ট হল।
পুরসভা সূত্রের বক্তব্য, নিয়মিত দায়িত্ব পালনকারী কর্মীদের কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু কাজে অনিয়ম বা দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভবিষ্যতে আরও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
