তেলের দামের চাপে টাকার ওপর চাপ, ডলার বিক্রি করে বাজারে হস্তক্ষেপ RBI-এর
নয়াদিল্লি: বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির জেরে ভারতীয় টাকার ওপর চাপ বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। বাজারের কয়েকজন ট্রেডারের দাবি, শুক্রবার টাকার দর সামলাতে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ডলার বিক্রি করেছে।
শুক্রবার প্রতি ডলারের বিনিময়ে ৯৪.৪৬ টাকায় লেনদেন শুরু হয়। বৃহস্পতিবার দিনের শেষে ডলারের দাম ছিল ৯৪.৪৮৫০ টাকা। অর্থাৎ দিনের শুরুতে টাকা সামান্য শক্তিশালী হলেও, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
বাজার সূত্রের খবর, তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে আমদানিকারকদের ডলারের চাহিদা বেড়েছে। সেই পরিস্থিতিতে টাকার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়া আটকাতেই RBI বাজারে ডলার বিক্রি করে হস্তক্ষেপ করেছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ঠিক কত পরিমাণ ডলার বিক্রি করেছে, তা প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।
তেলের দাম কেন চিন্তার?
ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের বড় অংশই বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে ভারতের আমদানি খরচও বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়তে পারে বাণিজ্য ঘাটতি এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের চাহিদার ওপর।
এদিকে, ভারতের জন্য অপরিশোধিত তেলের ঝুড়ির দামও ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে সাম্প্রতিক বাজার-তথ্যে উঠে এসেছে। দীর্ঘসময় তেলের দাম বেশি থাকলে আমদানি ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি দেশের মুদ্রাস্ফীতির ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।
RBI-এর হস্তক্ষেপের অর্থ কী?
সাধারণত টাকার দামে হঠাৎ বড় ধরনের ওঠানামা হলে RBI বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলার কেনাবেচার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করে। এর লক্ষ্য নির্দিষ্ট কোনও বিনিময় হার ধরে রাখা নয়, বরং বাজারে অতিরিক্ত অস্থিরতা কমানো।
তেলের দাম এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি আগামী দিনে টাকার ওপর কতটা চাপ তৈরি করে, সেদিকেই এখন নজর বাজারের। বিশেষ করে অপরিশোধিত তেলের দাম দীর্ঘসময় বেশি থাকলে আমদানি ব্যয় ও মুদ্রার দরের ওপর তার প্রভাব আরও স্পষ্ট হতে পারে।
