কোচবিহারে দম্পতির রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার, জোড়া মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য
কোচবিহার: বাড়ির শোওয়ার ঘর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় এক বৃদ্ধের দেহ, আর বাড়ির কাছের ঝোপ থেকে উদ্ধার হল তাঁর স্ত্রীর দেহ। রবিবার সকালে কোচবিহারের তুফানগঞ্জের বক্সিরহাট থানা এলাকার দক্ষিণ রামপুরে এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে খুনের ঘটনা বলে মনে করছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই চারজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের নাম সুনীল বিশ্বাস (৭০) এবং তাঁর স্ত্রী জানকী বিশ্বাস (৪৫)। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, জানকী ছিলেন সুনীলের দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী।
রবিবার সকালে বাড়ির শোওয়ার ঘর থেকে সুনীলের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, জানকীকে বাড়িতে না পেয়ে খোঁজ শুরু হয়। পরে বাড়ি থেকে প্রায় ২০ মিটার দূরের একটি ঝোপের মধ্যে তাঁর রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
খবর পেয়ে বক্সিরহাট থানার জোড়াই ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দু’টি দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণের সন্ধান চালাচ্ছে পুলিশ।
কোচবিহারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রিকি অগ্রবালের নেতৃত্বে তদন্ত চলছে। পুলিশের তরফে চারজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট করেনি পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়নি।
ঘটনার নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি। পারিবারিক বিবাদ, পুরনো কোনও বিরোধ নাকি অন্য কোনও কারণ—সব দিকই খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্তের পর আরও স্পষ্ট হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুনীলের প্রথম পক্ষের স্ত্রী গীতা বিশ্বাস এবং ছেলে সজল বিশ্বাসও একই এলাকায় থাকেন, যদিও তাঁদের বাড়ি আলাদা। সকালে সুনীলের বাড়ির দিক থেকে চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা সেখানে ছুটে যান। এরপরই তাঁর রক্তাক্ত দেহ দেখতে পান তাঁরা।
ঘটনায় এলাকায় আতঙ্কের পাশাপাশি নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একই পরিবারের দুই সদস্যের দেহ কীভাবে বাড়ি এবং বাড়ির পাশের ঝোপে পাওয়া গেল, এই ঘটনায় আর কারা জড়িত এবং খুনের উদ্দেশ্যই বা কী ছিল—তা জানতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আটক ব্যক্তিদের অভিযুক্ত বা দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে না। পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টেই এই জোড়া মৃত্যুর প্রকৃত রহস্যের উত্তর মিলবে।
