জিটিএ-তে নতুন প্রশাসক স্মৃতিরঞ্জন মোহান্তি, অনীতের ইস্তফার পর প্রশাসনিক দায়িত্বে আমলা
শিলিগুড়ি: পাহাড়ের প্রশাসনে বড় পরিবর্তন। গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা জিটিএ-র নতুন প্রশাসক হিসেবে আইএএস আধিকারিক স্মৃতিরঞ্জন মোহান্তিকে নিয়োগ করল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের তরফে এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। জিটিএ-র প্রধান সচিব হিসেবে দায়িত্ব সামলানোর পর এবার প্রশাসকের দায়িত্বও পেলেন তিনি।
জিটিএ-র নির্বাচিত নেতৃত্বের পদত্যাগের পর থেকেই পাহাড়ের এই স্বশাসিত সংস্থার প্রশাসনিক কাঠামোয় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। গত ১৭ জুন জিটিএ-র চিফ এক্সিকিউটিভ অনীত থাপা পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে ২৪ জুন তাঁর পদত্যাগ গ্রহণ করা হয়। একইসঙ্গে জিটিএ-র চেয়ারম্যান অঞ্জুল চৌহান এবং ডেপুটি চেয়ারম্যান রাজেশ চৌহানের পদত্যাগও গ্রহণ করা হয়।
এরপর জিটিএ-র প্রশাসনিক কাজ কীভাবে চলবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। সেই পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক কাজকর্ম সচল রাখা এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই স্মৃতিরঞ্জন মোহান্তিকে প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। নতুন নির্বাচিত বোর্ড দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত প্রশাসকের মাধ্যমেই জিটিএ-র কাজ পরিচালিত হবে বলে সরকারি সিদ্ধান্তে ইঙ্গিত মিলেছে।
২০২২ সালের জিটিএ নির্বাচনে অনীত থাপার দল ৪৫টি আসনের মধ্যে ২৭টি আসনে জয় পেয়েছিল। এরপর তাঁর নেতৃত্বেই জিটিএ পরিচালিত হচ্ছিল। কিন্তু চলতি বছরের জুনে তাঁর পদত্যাগের পর পাহাড়ের প্রশাসনিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসে।
অনীত থাপার পদত্যাগের আগে এবং পরেও জিটিএ-র বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছিল। তবে সেই অভিযোগগুলিকে এখনও অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে তদন্ত বা আইনি পদক্ষেপ হলে তার ভিত্তিতেই পরবর্তী পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে।
নতুন প্রশাসক হিসেবে স্মৃতিরঞ্জন মোহান্তির সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হবে জিটিএ-র প্রশাসনিক কাজ স্বাভাবিক রাখা এবং পাহাড়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। একইসঙ্গে জিটিএ-র পরবর্তী নির্বাচিত বোর্ড কবে গঠিত হবে, সেদিকেও নজর থাকবে পাহাড়ের রাজনৈতিক মহলের।
জিটিএ-র প্রশাসনে এই পরিবর্তন তাই শুধু একজন নতুন প্রশাসক নিয়োগের ঘটনা নয়। অনীত থাপার পদত্যাগের পর পাহাড়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা সাময়িকভাবে আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে পূরণের উদ্যোগ হিসেবেই এই সিদ্ধান্তকে দেখা হচ্ছে।
