বাঘ ছাড়ার আগে বক্সায় NTCA-এর নজরদারি, ২৮-২৯ আগস্ট পরিদর্শনের সম্ভাবনা
নিজস্ব সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: বক্সা টাইগার রিজার্ভে বাঘ পুনঃপ্রবর্তনের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। বাঘ ছাড়ার আগে বক্সার জঙ্গলের পরিবেশ ও প্রস্তুতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে চলতি সপ্তাহেই আসতে পারে ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটি (NTCA)-র প্রতিনিধিদল। বন দপ্তর সূত্রে খবর, আগামী ২৮ ও ২৯ আগস্ট আলিপুরদুয়ারে আসতে পারে ওই দল।
বাঘ পুনঃপ্রবর্তনের ক্ষেত্রে NTCA-এর চূড়ান্ত অনুমোদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বক্সায় বাঘ ছাড়ার প্রস্তুতি কতটা সম্পূর্ণ, কোথাও কোনও কাজ বাকি রয়েছে কি না—সবকিছুই খতিয়ে দেখবেন প্রতিনিধিরা। প্রয়োজন হলে বাকি কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশও দিতে পারে NTCA।
বক্সা জঙ্গলের ভিতরে ইতিমধ্যেই তৈরি করা হয়েছে এনক্লোজার। সেটিও পরিদর্শন করবে NTCA-এর দল। পাশাপাশি জঙ্গলের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখার পাশাপাশি বাঘের উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।
বাঘ পুনঃপ্রবর্তনের পাশাপাশি বক্সা টাইগার রিজার্ভের বিভিন্ন এলাকার গ্রামগুলির পুনর্বাসন প্রক্রিয়াও পর্যালোচনা করবে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। কোন পর্যায়ে রয়েছে পুনর্বাসনের কাজ, কোথায় কী সমস্যা রয়েছে—সেই বিষয়গুলিও সরেজমিনে দেখার কথা প্রতিনিধিদলের।
এদিকে বক্সায় বাঘ আনার প্রস্তুতিও জোরকদমে চলছে। বিহারের বাল্মিকী টাইগার রিজার্ভ অথবা অসমের মানস টাইগার রিজার্ভ—কোন জঙ্গল থেকে বাঘ আনা হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা চলছে। সম্প্রতি রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাও জানিয়েছেন, বাল্মিকী টাইগার রিজার্ভ থেকে বাঘ আনার বিষয়ে সম্মতি মিলেছে। পরবর্তীতে মানস টাইগার রিজার্ভ থেকেও আরও একটি বাঘ আনার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে NTCA-এর প্রতিনিধিদল বক্সা পরিদর্শন করার পরই গোটা বিষয়টি আরও চূড়ান্ত রূপ পাবে বলে বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।
বাঘ আনার জন্য ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ দল তৈরি করেছে বক্সা টাইগার রিজার্ভ কর্তৃপক্ষ। ওই দলের বনকর্মী এবং পশুচিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অন্য জঙ্গল থেকে বাঘ ধরে নির্দিষ্ট জঙ্গলে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিকল্পনা ও পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, সেই বিষয়ে তাঁদের প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে। রাজস্থান ও মহারাষ্ট্রে বাঘ এক জঙ্গল থেকে অন্য জঙ্গলে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতাও প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বন দপ্তরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিন বক্সা টাইগার রিজার্ভে বাঘ ছাড়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে জোরকদমে চলছে প্রস্তুতি। তবে এখনও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বাকি। তার মধ্যে NTCA-এর অনুমোদন অন্যতম।
বক্সা টাইগার রিজার্ভের এক আধিকারিকের কথায়, বাঘ পুনঃপ্রবর্তনের পুরো প্রক্রিয়ায় NTCA-এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বিভিন্ন রাজ্যের জঙ্গলে বাঘ পুনঃপ্রবর্তনের ক্ষেত্রে এই সংস্থার নজরদারি ও নির্দেশিকা রয়েছে। বক্সার প্রস্তুতিতে কোথাও কোনও ঘাটতি থাকলে NTCA-এর প্রতিনিধিরা তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারবেন।
২৮ বা ২৯ আগস্ট NTCA-এর প্রতিনিধিদল বক্সায় আসার সম্ভাবনা থাকলেও শেষ মুহূর্তে কর্মসূচিতে পরিবর্তন হতে পারে বলেও বন দপ্তরের তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
