বালাসনের জলের তোড়ে ফের ক্ষতিগ্রস্ত দুধিয়া সেতু, ব্যাহত শিলিগুড়ি–মিরিক যোগাযোগ
শিলিগুড়ি: টানা প্রবল বৃষ্টিতে ফের বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি যোগাযোগ ব্যবস্থা। বালাসন নদীর জলস্তর ও স্রোত বেড়ে যাওয়ায় শুক্রবার ভোরে দার্জিলিং জেলার দুধিয়ায় অস্থায়ী হিউম পাইপের সেতুর একাংশ জলের তোড়ে ভেসে যায়। এর ফলে শিলিগুড়ি–মিরিক সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ফের ব্যাহত হয়েছে।
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে পাহাড় ও সমতলের বিস্তীর্ণ এলাকায় শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি। রাতভর বৃষ্টির জেরে বালাসন নদীতে দ্রুত জল বাড়তে থাকে। শুক্রবার ভোরের দিকে নদীর প্রবল স্রোতে দুধিয়ার অস্থায়ী সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কয়েক মাসের ব্যবধানে একই জায়গায় ফের এই বিপর্যয় ঘটায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মিরিকের সঙ্গে শিলিগুড়ির সরাসরি সড়ক যোগাযোগে সমস্যা তৈরি হয়েছে। আপাতত বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বেইলি ব্রিজ দিয়ে ছোট গাড়ি চলাচলের সুযোগ থাকলেও বড় গাড়ির যাতায়াত বন্ধ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পণ্য পরিবহণ ও পর্যটকদের যাতায়াতেও সমস্যা তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতির কারণে মিরিকের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ঘুরপথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। ঘুম ও সুখিয়াপোখরি হয়ে যাতায়াতের বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে ধস নামার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
দুধিয়ার এই সেতু নিয়ে সমস্যা অবশ্য নতুন নয়। চলতি বছরের জুন মাসেও প্রবল বৃষ্টিতে বালাসন নদীর জলস্তর বেড়ে সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে পরে বেইলি ব্রিজের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু অস্থায়ী হিউম পাইপের সেতু ফের তৈরি হওয়ার পর এবার আবার সেটিই জলের তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হল।
সামনেই উৎসবের মরশুম। পুজোর আগে পাহাড়ে পর্যটকদের ভিড় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দুধিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক করার দাবি উঠছে। পর্যটন ব্যবসায়ীদের একাংশও দ্রুত সেতুর কাজ সম্পূর্ণ করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন।
বারবার অস্থায়ী সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় স্থায়ী ও টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাও নতুন করে সামনে এসেছে। বৃষ্টির পরিস্থিতি এবং নদীর জলস্তরের উপর নজর রাখছে প্রশাসন। এখন দ্রুত মেরামতির মাধ্যমে শিলিগুড়ি–মিরিক যোগাযোগ কতটা স্বাভাবিক করা যায়, সেদিকেই নজর।
