চিকেনস নেকের নিরাপত্তায় বড় পদক্ষেপ, ত্রিভুজাকার নিরাপত্তা গ্রিডে জোর কেন্দ্রের
শিলিগুড়ি, ২৪ আগস্ট: উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের মূল ভূখণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ সিলিগুড়ি করিডর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত, তার নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বড় পদক্ষেপের কথা জানাল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাম্প্রতিক শিলিগুড়ি সফরে করিডরের নিরাপত্তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক হয়। সেখানে সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ, গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর সুরক্ষা এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
কেন্দ্রের পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ‘Triangular Security Grid’ বা ত্রিভুজাকার নিরাপত্তা কাঠামো। অমিত শাহের বক্তব্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থার আওতায় অসমের ধুবড়ি, বিহারের কিশনগঞ্জ এবং পশ্চিমবঙ্গের চোপড়া—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা কাঠামো আরও শক্তিশালী করা হবে। এর লক্ষ্য হল গোটা করিডরজুড়ে নজরদারি, নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা বাড়ানো।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই সিলিগুড়ি করিডর ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সরু করিডরের মাধ্যমেই দেশের মূল অংশের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের আটটি রাজ্যের যোগাযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে করিডরের আশপাশে বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের আন্তর্জাতিক সীমান্ত থাকায় এর কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
২২ আগস্ট সুকনায় অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা পর্যালোচনা বৈঠকে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের পাশাপাশি সেনা, বিএসএফ, এসএসবি ও আরপিএফের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে করিডরের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিজেদের উপস্থিতি ও কার্যক্রম বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি করিডরকে দখলমুক্ত রাখা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
শুধু নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিই নয়, করিডরের পরিকাঠামোগত নিরাপত্তার দিকটিও গুরুত্ব পাচ্ছে। অমিত শাহ জানান, নিরাপত্তা সংস্থাগুলির প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তুলতে ৫৬০ একর জমির প্রয়োজন ছিল এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার ওই জমি বরাদ্দের জন্য নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
কেন্দ্রের বক্তব্য, নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি পরিকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং সীমান্ত এলাকায় সরকারি সংস্থাগুলির উপস্থিতি বাড়ানো—সব মিলিয়েই সিলিগুড়ি করিডরকে আরও সুরক্ষিত করা হবে। উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের যোগাযোগের এই গুরুত্বপূর্ণ ‘লাইফলাইন’কে নিরাপদ রাখাই এখন কেন্দ্রের অন্যতম বড় অগ্রাধিকার।
