09/10/2026 Latest News, Breaking News & West Bengal Updates
জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনে শুনানি, অতিরিক্ত নথি চাইল কমিশন
পশ্চিমবঙ্গ

জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনে শুনানি, অতিরিক্ত নথি চাইল কমিশন

News Bangla Live 24 September 13, 2026 1 min read

কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম, সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে চলা বিরোধ এবার আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছল। শনিবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সামনে তৃণমূলের দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা নিজেদের দাবি ও বক্তব্য পেশ করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের পাশাপাশি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরও দলের নাম ও ঐতিহ্যবাহী ‘জোড়াফুল’ প্রতীকের উপর নিজেদের দাবি জানায়।

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে প্রথমে বৈঠক করে ঋতব্রত শিবিরের প্রতিনিধিদল। তাদের তরফে দলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমর্থন এবং দলীয় কাঠামো সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি পেশ করা হয়। বৈঠকের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, কমিশনের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নথিও জমা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কমিশনের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।

তবে ঋতব্রত শিবিরের কাছ থেকে আরও কিছু নথি চেয়েছে নির্বাচন কমিশন। দলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাদের দাবির সমর্থনে অতিরিক্ত তথ্য ও নথি জমা দিতে বলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কমিশনের এই পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট, বিষয়টি নিয়ে এখনও তথ্য ও নথিপত্র খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া চলছে।

এর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবিরের প্রতিনিধিরাও কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেন। তাঁদের প্রতিনিধি দলে ডেরেক ও’ব্রায়েন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক নেতা ছিলেন। মমতা শিবিরের পক্ষ থেকেও দলের সাংগঠনিক কাঠামো, নেতৃত্ব এবং ‘জোড়াফুল’ প্রতীকের উপর নিজেদের দাবির পক্ষে বক্তব্য ও নথি তুলে ধরা হয়।

মমতা শিবিরের মূল বক্তব্য, দলের সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় অন্তর সাংগঠনিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং সেই কাঠামো মেনেই দলের নেতৃত্ব ও সংগঠন পরিচালিত হয়ে এসেছে। দলের সংবিধান ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার কথাও কমিশনের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।

অন্যদিকে, ঋতব্রত শিবির দলের বর্তমান সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজেদের দাবি জানিয়েছে। দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানের পক্ষে নথি ও যুক্তি পেশ করায় এখন নির্বাচন কমিশনের সামনে মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—দলের বৈধ সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ কার হাতে এবং ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীকের অধিকার কোন পক্ষ পাবে।

এই বিরোধের গুরুত্ব আরও বেড়েছে আসন্ন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনকে ঘিরে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, দুই কেন্দ্রে আগামী ৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৬ সেপ্টেম্বর। ফলে তার আগে দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে কমিশনের কোনও অন্তর্বর্তী বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে কি না, তা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তবে শনিবারের শুনানির পরও নির্বাচন কমিশন জোড়াফুল প্রতীক বা তৃণমূল কংগ্রেসের নাম নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। কমিশন দুই পক্ষের বক্তব্য, জমা দেওয়া নথি এবং সাংগঠনিক দাবির বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে।

ফলে আপাতত জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে টানাপোড়েন অব্যাহত থাকলেও নির্বাচন কমিশনের শুনানি পর্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হল। আগামী কয়েক দিনে কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের, বিশেষ করে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব কতটা পড়ে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ।

Leave a Comment