কোচবিহারে বিতর্কিত হোমিওপ্যাথিক কলেজ বন্ধের নির্দেশ, বৈধ নথি না মেলার অভিযোগ
কোচবিহার: ডাক্তারি পড়ানোর নামে বিতর্কিত একটি হোমিওপ্যাথিক কলেজ চালানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে বড় পদক্ষেপের পথে স্বাস্থ্য দফতর। কোচবিহারের ঘুঘুমারি এলাকার ওই প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বৈধ নথি ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন দেখাতে না পারার অভিযোগেই এই পদক্ষেপ বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘সেন্ট্রাল কাউন্সিল অফ বায়োকেমিক অ্যান্ড কমপ্লেক্স হোমিও মেডিসিন উইথ রিসার্চ ইন ইন্ডিয়া’-র অধীনে ওই প্রতিষ্ঠানটি চলছিল। অভিযোগ উঠেছিল, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাউন্সিল অফ হোমিওপ্যাথি মেডিসিনের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই সেখানে হোমিওপ্যাথি সংক্রান্ত কোর্স চালানো হচ্ছিল এবং পড়ুয়াদের সার্টিফিকেট দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।
জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে পশ্চিমবঙ্গের কাউন্সিল অফ হোমিওপ্যাথি মেডিসিনের তরফে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য কোচবিহারের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে জানানো হয়। এরপর কলেজ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে হাজির হতে বলা হলেও অভিযোগ, সন্তোষজনক কোনও নথি জমা পড়েনি। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে কোচবিহার কোতোয়ালি থানাতেও তদন্তের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছিল।
এরপর গত ৩১ জুলাই কাউন্সিলের রেজিস্ট্রারের তরফে ফের কোচবিহারের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে চিঠি দেওয়া হয়। ওই চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পড়ুয়া ও সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তুলে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করার অনুরোধ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাসের ১৯ তারিখে কোতোয়ালি থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে আয়ুষ দফতরের আধিকারিকরা ওই প্রতিষ্ঠানে যান এবং কাউন্সিলের নির্দেশিকা সেখানে সাঁটিয়ে দেন। কোচবিহারের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছ থেকে নির্দিষ্ট চিঠি পাওয়ার পর জেলা প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
তবে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাঁদের দাবি, কলেজটি সম্পূর্ণ বৈধ এবং ১৯৯৩ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি চলছে। হোমিওপ্যাথি মেডিসিন কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠানটিকে অবৈধ ঘোষণা করার এক্তিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্য দফতরের বক্তব্য অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বৈধ নথি এখনও সন্তোষজনকভাবে পেশ করা হয়নি। ফলে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে পড়াশোনা করা পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
