জলপাইগুড়ি পুরসভায় আস্থা ভোট ঘিরে টানটান পরিস্থিতি, চেয়ারম্যান পদে নতুন সমীকরণের জল্পনা
জলপাইগুড়ি: চেয়ারম্যানকে ঘিরে অনাস্থা, পুরসভার অচলাবস্থা এবং প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা—সব মিলিয়ে ফের উত্তপ্ত জলপাইগুড়ি পুরসভা। চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের পর এবার আগামী ২৭ আগস্ট আস্থা ভোটের ডাক দিয়েছেন অনাস্থাকারী কাউন্সিলারদের একাংশ। ফলে ওই দিন পুরসভার নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ৩০ জুলাই চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নয় জন কাউন্সিলার অনাস্থা প্রস্তাব আনেন। এরপর দীর্ঘ সময় পুরসভায় চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সোমবার, প্রায় ২২ দিন পর পুরসভায় ফিরে চেয়ারম্যান জানান, পারিবারিক কারণে তিনি বাইরে ছিলেন।
এদিকে চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির সময়ে পুরসভার পরিষেবা নিয়েও সমস্যা তৈরি হয় বলে অভিযোগ। বকেয়া পেনশন ও বেতনের দাবিতে পুরসভার কর্মীদের একাংশ আন্দোলনে নামেন। পরিস্থিতির জেরে পুরসভার স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ সামনে আসে।
এরই মধ্যে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর পুরবোর্ডকে শো-কজ করে। পুরসভার পরিষেবা ব্যাহত হওয়া-সহ একাধিক বিষয়ে রিপোর্ট চাওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে পুরসভায় প্রশাসক বসানোর সম্ভাবনা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও ঘোষণা করা হয়নি।
অন্যদিকে, অনাস্থাকারী কাউন্সিলারদের পক্ষ থেকে আগামী ২৭ আগস্ট দুপুর ১২টায় আস্থা ভোটের সভা ডাকার কথা জানানো হয়েছে। তাঁদের দাবি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান সভা ডাকেননি বলেই তাঁরা আইন মেনে পরবর্তী প্রক্রিয়ায় এগিয়েছেন।
এখন মূল প্রশ্ন—২৭ আগস্টের আস্থা ভোটে কী ফল হয়? চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায় নিজের পদ ধরে রাখতে পারেন, নাকি পুরসভায় নতুন নেতৃত্ব আসবে? পাশাপাশি প্রশাসক বসানোর সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নেয় কি না, সেদিকেও নজর থাকবে।
সব মিলিয়ে, জলপাইগুড়ি পুরসভাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক টানাপোড়েন। আস্থা ভোটের দিনই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।
