গঙ্গার জল বাড়তেই ফারাক্কার সব গেট খোলার আবেদন, বিহারের বন্যা পরিস্থিতি ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ
নিউজ বাংলা লাইভ ডেস্ক | ২৪ আগস্ট ২০২৬
বিহারে গঙ্গার জলস্তর ক্রমশ বাড়তে থাকায় বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ফারাক্কা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে বিহার সরকার। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ফোনে কথা বলে এই আবেদন জানিয়েছেন বলে সরকারি সূত্রে খবর।
বিহার সরকারের বক্তব্য, গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধির জেরে রাজ্যের একাধিক নিচু এলাকা জলমগ্ন হচ্ছে। ফারাক্কা ব্যারাজের গেট খুলে দিলে গঙ্গার জলপ্রবাহ আরও স্বাভাবিকভাবে নেমে যেতে পারে এবং বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা হতে পারে বলে মনে করছে বিহার সরকার।
পাটনায় বিপদসীমার উপরে গঙ্গা
কেন্দ্রীয় জল কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পাটনার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘাটে গঙ্গার জল বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা আকাশপথে পরিদর্শন করেছেন এবং প্রশাসনকে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
বিহার সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিচু ও বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলিতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।
ফারাক্কা নিয়ে নতুন করে নজরে গঙ্গার জলবণ্টন
ফারাক্কা ব্যারাজকে ঘিরে জলবণ্টনের বিষয়টিও বর্তমানে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ১৯৯৬ সালে গঙ্গার জলবণ্টন নিয়ে যে চুক্তি হয়েছিল, তার মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। ওই চুক্তির আওতায় ফারাক্কায় গঙ্গার জল শুষ্ক মরশুমে নির্দিষ্ট সূত্র অনুযায়ী ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ভাগ করা হয়।
ফলে একদিকে বিহারের বন্যা পরিস্থিতি, অন্যদিকে ফারাক্কা ব্যারাজের জলপ্রবাহ এবং সামনে গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তির পুনর্নবীকরণ—সব মিলিয়ে ফারাক্কা ফের জাতীয় স্তরে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
তবে বর্তমানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফারাক্কা ব্যারাজের সব গেট ইতিমধ্যেই খুলে দেওয়া হয়েছে—এমন নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। আপাতত বিষয়টি নিয়ে বিহার সরকারের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে এবং দ্রুত পদক্ষেপের অনুরোধ করা হয়েছে।
