দিনহাটায় ৭ বছরের শিশুকে গণধর্ষণের অভিযোগ, ‘মুখ বন্ধ রাখতে ২০ হাজার টাকা’র প্রস্তাব! বিজেপি নেত্রীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ
দিনহাটা: সাত বছরের এক শিশুকে গণধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কোচবিহারের দিনহাটায়। পাঁচ নাবালকের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের আটক করা হয়নি বলে জানা গিয়েছে। বর্তমানে নির্যাতিতা শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনাকে ঘিরে পুলিশের তদন্তের পাশাপাশি শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোরও। নির্যাতিতার মায়ের অভিযোগ, ঘটনার কথা প্রকাশ্যে না আনার জন্য তাঁকে ২০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এই অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন স্থানীয় বিজেপি নেত্রী শাবানা খাতুন।
নির্যাতিতার মায়ের দাবি, ঘটনার পর তাঁকে মুখ বন্ধ রাখার জন্য ওই টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে তিনি কোনওভাবেই বিষয়টি চেপে রাখতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, “আমি চাই আমার মেয়ে বিচার পাক। যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, প্রত্যেকের শাস্তি হোক।”
মঙ্গলবার রাতে থানায় অভিযোগ দায়ের করার পরই শাবানা খাতুনের বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ তোলেন নির্যাতিতার মা। অভিযোগ সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
যদিও নির্যাতিতার মায়ের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বিজেপি নেত্রী শাবানা খাতুন। তাঁর দাবি, সিপিএমের মদতে নির্যাতিতার মাকে দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ করানো হচ্ছে।
শাবানার বক্তব্য, রবিবার ঘটনার খবর পাওয়ার পর তিনি নিজেই শিশুটিকে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পুলিশের সঙ্গেও তিনি কথা বলেছেন বলে দাবি করেন। তাঁর কথায়, নির্যাতিতা তাঁদের গ্রামের মেয়ে। সেই কারণেই ঘটনার খবর পাওয়ার পর তিনি দ্রুত সেখানে পৌঁছে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।
তবে ২০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাবের অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছেন শাবানা। পরে তাঁর পক্ষ থেকে প্রকাশ করা একটি ভিডিও নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওই ভিডিওতে নির্যাতিতার মাকে বিজেপি নেতৃত্বের কাছ থেকে সাহায্য পাওয়ার কথা বলতে শোনা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, শাবানা খাতুনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে সিপিএম। দলের নেত্রী সুজাতা চক্রবর্তীর বক্তব্য, তাঁরা শুধুমাত্র নির্যাতিতার পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন। নির্যাতিতার মা যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি তাঁর নিজের বক্তব্য বলেই দাবি সিপিএমের।
এদিকে, সাত বছরের শিশুকে গণধর্ষণের অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পাঁচ নাবালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও এখনও তাদের আটক করা হয়নি বলে জানা গিয়েছে। ফলে অভিযুক্তরা কবে পুলিশের জালে ধরা পড়বে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
পাশাপাশি, নির্যাতিতার মায়ের করা ২০ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগের সত্যতাও তদন্তে স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায়। অভিযোগটি সত্যি কি না, তা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হবে।
শাবানা খাতুনকে ঘিরে এর আগেও একাধিক অভিযোগ ওঠার দাবি সামনে এসেছে। এবার একটি শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর ঘটনায় নির্যাতিতার পরিবারের তরফে তাঁর বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় নতুন করে অস্বস্তিতে পড়েছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। যদিও শাবানা খাতুন এই অভিযোগও অস্বীকার করেছেন।
বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মন অবশ্য জানিয়েছেন, দলের কেউ অন্যায় করলে দলীয় পরিচয়ের কারণে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হওয়া উচিত বলেই মন্তব্য তাঁর।
এখন মূল নজর পুলিশের তদন্তের দিকে। শিশুটির অভিযোগের সত্যতা, অভিযুক্তদের ভূমিকা এবং টাকা দেওয়ার অভিযোগ—সবকিছু তদন্তে কতটা স্পষ্ট হয়, তার দিকেই তাকিয়ে পরিবার থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা।
