09/10/2026 Latest News, Breaking News & West Bengal Updates
ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের দফতরে ভোররাতে হামলার অভিযোগ, বিজেপির বিরুদ্ধে সরব অভিষেক
পশ্চিমবঙ্গ

ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের দফতরে ভোররাতে হামলার অভিযোগ, বিজেপির বিরুদ্ধে সরব অভিষেক

News Bangla Live 24 September 3, 2026 1 min read

কলকাতা,: ফের উত্তপ্ত কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিট। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের দলীয় দফতরে বৃহস্পতিবার ভোররাতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ভোর প্রায় সাড়ে ৪টে নাগাদ অস্ত্রধারী বিজেপি কর্মীরা দফতরে ঢুকে তাণ্ডব চালায়। ঘটনায় দলীয় কর্মীদের মারধর, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং অফিসের আসবাবপত্র ও বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়েছে বলে দাবি তাঁর।

ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তাঁর অভিযোগ, ক্যামাক স্ট্রিটের মতো কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একটি রাজনৈতিক দলের দফতরে এই ধরনের হামলা শুধু একটি দলের ওপর আক্রমণ নয়, বরং আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের ওপরও গুরুতর আঘাত।

পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন অভিষেকের

হামলার অভিযোগের পাশাপাশি কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সরব হয়েছেন অভিষেক। তাঁর দাবি, দফতরে থাকা কর্মী এবং তাঁদের আইনজীবীরা বারবার ফোন ও ই-মেলের মাধ্যমে পুলিশকে বিষয়টি জানালেও প্রায় দু’ঘণ্টা কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই অভিযোগের তদন্ত এবং হামলার নেপথ্যে কারা ছিল, তা দ্রুত খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যপাল, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর দফতরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। একইসঙ্গে হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।

বিজেপির পাল্টা দাবি

অন্যদিকে, বিজেপি এই অভিযোগ মানতে নারাজ। বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ ঘটনাটিকে সাজানো বলে দাবি করেছেন। ফলে হামলাটি ঠিক কারা ঘটিয়েছে এবং ঘটনার সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট কী—তা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের তদন্তের দিকেই এখন নজর।

কয়েকদিন ধরেই উত্তপ্ত ক্যামাক স্ট্রিট

এই ঘটনার কয়েকদিন আগেই ক্যামাক স্ট্রিটের একই দফতরকে ঘিরে বড়সড় উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। ২৭ আগস্ট কলকাতা পুরসভা ও কলকাতা পুলিশের একটি দল দফতরের বাইরে থাকা একটি কথিত অননুমোদিত বিলবোর্ড সরাতে গেলে তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। সেই ঘটনায় একাধিক FIR হয় এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ওই মামলাতেই তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। ১ সেপ্টেম্বর তিনি শেক্সপিয়র সরণি থানায় প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন। পরদিন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এর মধ্যেই বুধবার ক্যামাক স্ট্রিটের ওই ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়েও নোটিস জারি হয়েছে বলে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। ফলে মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে একই দফতরকে ঘিরে প্রশাসনিক পদক্ষেপ, পুলিশি তদন্ত এবং এবার হামলার অভিযোগ—সব মিলিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

তদন্তেই স্পষ্ট হবে আসল সত্য

ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা এখন তুঙ্গে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে রাজনৈতিক হিংসা ও গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপি হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে দেখছে। ফলে ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং পুলিশের তদন্তের ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত হামলার প্রকৃত ঘটনা ও দায়ীদের সম্পর্কে স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে।

নিউজ বাংলা লাইভ ২৪-এর পক্ষ থেকে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট—কোনও রাজনৈতিক দলের দফতরেই হামলা, ভাঙচুর বা হিংসা গণতন্ত্রের পক্ষে কাম্য নয়। অভিযোগ সত্য হলে দোষীদের দল-মত নির্বিশেষে দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি।

Leave a Comment