09/10/2026 Latest News, Breaking News & West Bengal Updates
প্রধান নির্বাচন ঘিরে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, দিনহাটায় তিরবিদ্ধ কর্মী
উত্তরবঙ্গ

প্রধান নির্বাচন ঘিরে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, দিনহাটায় তিরবিদ্ধ কর্মী

News Bangla Live 24 September 4, 2026 1 min read

দিনহাটা: পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠনকে কেন্দ্র করে বিজেপির দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তেজনা ছড়াল কোচবিহারের দিনহাটায়। সংঘর্ষের সময় তিরবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন বিজেপির এক মহিলা কর্মী। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায় পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া।

ঘটনাটি ঘটেছে দিনহাটা-২ ব্লকের নাজিরহাট-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের শালমারা এলাকায়। বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ওই পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠনের কথা ছিল। তার আগেই প্রধান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চরমে ওঠে।

কী নিয়ে বিবাদ?

২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে নাজিরহাট-২ গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট ১৯টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ১২টি, বিজেপি ৬টি এবং নির্দল প্রার্থী একটি আসনে জয়ী হন। পরবর্তী সময়ে তৃণমূলের কয়েকজন সদস্য বিজেপির দিকে চলে আসায় পঞ্চায়েতে বিজেপির বোর্ড গঠনের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যূথিকা বর্মনকে প্রধান করার কথা ছিল বলে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশের দাবি। কিন্তু প্রধান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিজেপির মধ্যেই মতবিরোধ তৈরি হয়। স্থানীয় মণ্ডল সভাপতি কৃষ্ণ বর্মন এবং বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য তরণীকান্ত বর্মনের পক্ষের মধ্যে এই বিরোধ তৈরি হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

বচসা থেকে সংঘর্ষ, তিরবিদ্ধ কর্মী

বোর্ড গঠনের আগে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বচসা ও পরে হাতাহাতি শুরু হয়। পরিস্থিতি ক্রমে সংঘর্ষের রূপ নেয়। অভিযোগ, সেই সময় তির ছোড়াছুড়ি হয়। তিরের আঘাতে বিজেপি কর্মী শান্তি তালুকদার আহত হন। তাঁর কোমরে তির লাগে বলে জানা গিয়েছে। পরে তাঁকে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুলি চলার অভিযোগও উঠেছে। তবে গুলি চলার বিষয়টি পুলিশ নিশ্চিত করেনি। ফলে এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই এখনও প্রয়োজন।

দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী অভিযোগ

আহত শান্তি তালুকদারের বোন হেলেন তালুকদারের অভিযোগ, যূথিকা বর্মনকে প্রধান করার সমর্থনে তাঁরা পঞ্চায়েত কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে তরণীকান্ত বর্মনের পক্ষের লোকজন তাঁদের উপর হামলা চালায়। তাঁর দাবি, হামলাকারীরাও বিজেপির কর্মী।

অন্যদিকে তরণীকান্ত বর্মন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, তিনি জেলা সভাপতির নির্দেশেই এলাকায় গিয়েছিলেন। পরিস্থিতি অশান্ত হতে পারে বলে তিনি আগে থেকেই জেলা নেতৃত্বকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলেন বলেও দাবি করেছেন। তাঁর পাল্টা দাবি, যারা গন্ডগোল করেছে, তাদের ছোড়া তিরেই একজন আহত হয়েছেন।

তরণীকান্তের বক্তব্য, এই পরিস্থিতিতে সেখানে বিজেপির বোর্ড গঠন করা সম্ভব নয়। প্রশাসক বসানোর পক্ষেও তিনি মত দিয়েছেন।

এলাকায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী

সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় বাহিনীও মোতায়েন করা হয়। পুলিশ কয়েকজনকে আটক করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে। তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কী অভিযোগ বা কোন ধারায় মামলা হয়েছে, তা নিয়ে এখনও বিস্তারিত সরকারি তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

বিজেপির দিনহাটা বিধায়ক অজয় রায় জানিয়েছেন, ঘটনায় যারা যুক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রশাসনকেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার কথা বলা হয়েছে।

ভেস্তে গেল বোর্ড গঠন

বিজেপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষের জেরে শেষ পর্যন্ত নাজিরহাট-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন করা সম্ভব হয়নি। প্রধান কে হবেন, তা নিয়ে দলের অভ্যন্তরের বিরোধই এই সংঘর্ষের মূল কারণ বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।

তবে তির ছোড়া, গুলি চলা এবং হামলায় কারা সরাসরি যুক্ত—এই প্রশ্নে দুই পক্ষের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। ফলে পুলিশি তদন্ত ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর রয়েছে।

Leave a Comment