বুদগামে বড় সাফল্য নিরাপত্তাবাহিনীর, খতম লস্কর-ই-তৈবার পাকিস্তানি জঙ্গি ইয়াসির
শ্রীনগর: জম্মু-কাশ্মীরের মধ্যাঞ্চলে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য পেল নিরাপত্তাবাহিনী। বুদগাম জেলার উঁচু ও জঙ্গলঘেরা আশদার গলি এলাকায় যৌথ অভিযানে এক জঙ্গি নিহত হয়েছে। পরে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ জানিয়েছে, নিহত জঙ্গির নাম ইয়াসির। সে পাকিস্তানি নাগরিক এবং নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত ছিল।
নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গিয়েছে, জঙ্গিদের গতিবিধি সম্পর্কে নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর বুদগামের আশদার গলি এলাকায় যৌথ তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। অভিযানে ভারতীয় সেনা, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী বা সিআরপিএফের সদস্যরা অংশ নেন।
তল্লাশি চলাকালীন নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করেন। সন্দেহভাজনদের চ্যালেঞ্জ করা হলে জঙ্গিরা গুলি চালায়। পাল্টা গুলি চালায় নিরাপত্তাবাহিনী। শুরু হয় তীব্র গুলির লড়াই। সেই সংঘর্ষেই এক জঙ্গি নিহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি একে সিরিজের রাইফেল এবং অন্যান্য যুদ্ধসামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
প্রথমে পরিচয় জানা যায়নি, পরে শনাক্ত ইয়াসির
৪ সেপ্টেম্বর সংঘর্ষের পর সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, নিহত জঙ্গির পরিচয় তখনও নিশ্চিত করা যায়নি। এলাকায় আরও জঙ্গি লুকিয়ে থাকার আশঙ্কায় তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাওয়া হয়।
৫ সেপ্টেম্বর জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ জানায়, ‘অপারেশন আশদার’-এ নিহত জঙ্গিকে ইয়াসির হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, ইয়াসির পাকিস্তানি নাগরিক এবং লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত ছিল।
২০২৪ সালের একাধিক হামলার সঙ্গে যোগের অভিযোগ
নিরাপত্তা সংস্থার দাবি, ইয়াসির ২০২৪ সালে জম্মু-কাশ্মীরে ঘটে যাওয়া একাধিক জঙ্গি হামলার সঙ্গে যুক্ত ছিল। তার বিরুদ্ধে পুঞ্চে ভারতীয় বায়ুসেনার কনভয়ে হামলা, সোনমার্গ এবং বোটাপাথরি-গুলমার্গ এলাকায় হামলার সঙ্গে যোগ থাকার অভিযোগ রয়েছে।
২০২৪ সালের ৪ মে পুঞ্চে ভারতীয় বায়ুসেনার একটি কনভয়ে জঙ্গিরা হামলা চালায়। ওই ঘটনায় ভারতীয় বায়ুসেনার এক সদস্য নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হন।
বর্তমান অভিযানে নিহত ইয়াসির ওই হামলাগুলির সঙ্গে কীভাবে যুক্ত ছিল, সে বিষয়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি আরও তদন্ত করছে। সংবাদসূত্র অনুযায়ী, সে লস্কর-ই-তৈবার নিহত কমান্ডার জুনাইদ আহমেদ ভাটের নেতৃত্বাধীন একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
আরও জঙ্গির খোঁজে তল্লাশি
ইয়াসির নিহত হলেও অভিযান এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। নিরাপত্তাবাহিনীর আশঙ্কা, ওই এলাকায় আরও জঙ্গি লুকিয়ে থাকতে পারে। ফলে আশদার গলি এবং সংলগ্ন ঘন জঙ্গল এলাকায় তল্লাশি ও চিরুনি অভিযান চালানো হচ্ছে। কিছু প্রতিবেদনে এলাকায় আরও এক বা দুই জঙ্গি আটকে থাকার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে।
আশদার গলি এলাকাটি বুদগাম ও জম্মুর পুঞ্চ অঞ্চলের সংযোগকারী দুর্গম পার্বত্য এলাকার কাছে অবস্থিত। ঘন জঙ্গল ও কঠিন ভূপ্রকৃতির কারণে এই ধরনের অভিযানে নিরাপত্তাবাহিনীকে বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হচ্ছে।
নিরাপত্তা আরও জোরদার
এই অভিযানের পর মধ্য কাশ্মীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবকে কেন্দ্র করে শ্রীনগরসহ কাশ্মীর উপত্যকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হয়েছে।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে এই অভিযান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ নিহত ইয়াসিরের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের একাধিক হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা নির্দিষ্ট অভিযোগগুলির বিষয়ে তদন্ত ও সরকারি যাচাই প্রক্রিয়া এখনও চলছে।
অপারেশন আশদারে একজন জঙ্গি নিহত হলেও বুদগামের জঙ্গলে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
