দীর্ঘ ৬৫ ঘণ্টা অপেক্ষার পর স্বাভাবিক ফরাক্কা রেল যোগাযোগ, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ট্রেন চলাচল শুরু
মুর্শিদাবাদ: টানা প্রায় ৬৫ ঘণ্টার অচলাবস্থার পর অবশেষে স্বাভাবিক হল ফরাক্কা রেলপথ। প্রবল বৃষ্টিতে নিউ ফরাক্কা স্টেশনের কাছে রেললাইনের নিচের মাটি ধসে যাওয়ায় গত কয়েক দিন ধরে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে ট্রেন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল এবং বেশ কিছু ট্রেনের যাত্রাপথ পরিবর্তন করতে হয়েছিল। অবশেষে শনিবার সন্ধ্যায় মেরামতির কাজ শেষ করে নিরাপত্তা পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর ফের যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।
কী কারণে বন্ধ হয়েছিল ট্রেন চলাচল?
মুর্শিদাবাদের নিউ ফরাক্কা স্টেশনের কাছে প্রবল বৃষ্টির জেরে রেললাইনের নিচের মাটি ধসে যায়। এর ফলে লাইনের একটি বড় অংশের নীচের মাটি সরে গিয়ে রেলপথের পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি নিরাপদ না হওয়ায় পূর্ব রেল ওই পথে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়।
এর জেরে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে রেল যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয় এবং বেশ কিছু ট্রেনকে বিকল্প পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে যাত্রীদের ব্যাপক সমস্যার মুখে পড়তে হয়।
টানা ৬৫ ঘণ্টা মেরামতির কাজ
রেললাইন দ্রুত স্বাভাবিক করতে পূর্ব রেলের জরুরি মেরামতকারী দল টানা কাজ চালায়। প্রবল বৃষ্টি এবং বারবার মাটি সরে যাওয়ায় প্রথম দিকে কাজ ব্যাহত হলেও শনিবার আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় মেরামতির কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত অংশে মাটি ভরাট করে রেললাইনের ভিত শক্ত করা, লাইনের অবস্থান ঠিক করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত বৈদ্যুতিক পরিকাঠামো মেরামতের কাজ করা হয়।
সফল পরীক্ষামূলক ট্রেন, তারপর যাত্রী পরিষেবা
মেরামতির কাজ শেষ হওয়ার পর শনিবার একটি মালগাড়ি দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে ওই লাইনে ট্রেন চালানো হয়। পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পাণ্ডে নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল তদারকি করেন। পরীক্ষামূলক ট্রেন সফলভাবে চলার পর ওভারহেড বৈদ্যুতিক তার এবং অন্যান্য পরিকাঠামো পরীক্ষা করা হয়।
এরপর ইঞ্জিনিয়ারদের নিরাপত্তা ছাড়পত্র পাওয়া গেলে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ফের যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে রেল যোগাযোগ এখন স্বাভাবিক ও নিরাপদ।
স্বস্তি যাত্রীদের
ফরাক্কা রেলপথ বন্ধ থাকায় গত কয়েক দিন ধরে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে যাতায়াতকারী হাজার হাজার যাত্রী সমস্যায় পড়েছিলেন। ট্রেন বাতিল এবং যাত্রাপথ পরিবর্তনের পাশাপাশি বিকল্প সড়কপথের উপরও চাপ বেড়েছিল।
৬৫ ঘণ্টার মেরামতির পর ফের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হওয়ায় আপাতত বড় স্বস্তি ফিরেছে যাত্রীদের মধ্যে। তবে রেলপথের পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই ট্রেন চলাচল পরিচালনা করা হচ্ছে।
