অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস নিয়ে বড় আপডেট, দমকলের খালি করার নির্দেশে আদালতের স্থগিতাদেশ
কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস নিয়ে তৈরি হল নতুন পরিস্থিতি। অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থায় একাধিক ত্রুটির অভিযোগ তুলে ৯ ক্যামাক স্ট্রিটের ভবনের বেসমেন্ট, ষষ্ঠ ও সপ্তম তলা খালি করার নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য দমকল দফতর। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয় অভিষেকের পক্ষ। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, নিম্ন আদালত আপাতত ওই খালি করার নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে।
কী কারণে দমকলের নির্দেশ?
দমকল দফতরের পরিদর্শনে ভবনটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক ঘাটতি ধরা পড়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবনের বেসমেন্টে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। সপ্তম তলায় জরুরি নির্গমনের নির্দিষ্ট ব্যবস্থা এবং অগ্নি-সতর্কীকরণ ব্যবস্থাতেও সমস্যা পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
এছাড়াও, ওই দফতরের অগ্নিনিরাপত্তা শংসাপত্রের মেয়াদ ১০ আগস্ট শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং তা পুনর্নবীকরণ করা হয়নি বলে দমকল সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এরপর কর্তৃপক্ষের তরফে জবাব চেয়ে নোটিস দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ার পরেই ভবনের বেসমেন্ট, ষষ্ঠ ও সপ্তম তলা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
কোন অংশ খালি করার নির্দেশ ছিল?
দমকলের নির্দেশে শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস নয়, ভবনের নির্দিষ্ট অংশ ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। বেসমেন্ট এবং ষষ্ঠ ও সপ্তম তলা অবিলম্বে খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট অংশে প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেগুলি ব্যবহার না করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
আদালতে গিয়ে স্বস্তি অভিষেকের
দমকলের এই নির্দেশের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয় অভিষেকের পক্ষ। শনিবারের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, নিম্ন আদালত আপাতত দমকলের খালি করার নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে। মামলার সঙ্গে যুক্ত পক্ষগুলিকে নোটিসও দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে জানা গেছে।
অর্থাৎ, এই মুহূর্তে দমকলের নির্দেশ কার্যকর করে ওই অংশগুলি খালি করার বিষয়টি আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশের কারণে স্থগিত রয়েছে।
কী ঘটেছিল তার আগে?
ক্যামাক স্ট্রিটের ওই ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি কলকাতা পুলিশ ও দমকলের যৌথ দল পরিদর্শন করেছিল। এরপর অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দমকলের তরফে পদক্ষেপ করা হয়। এর আগে ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা শংসাপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়া এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু ঘাটতির বিষয়ও সামনে আসে।
ফলে ঘটনাটি এখন শুধু দমকলের নির্দেশে সীমাবদ্ধ নেই। একদিকে অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে দমকলের পদক্ষেপ, অন্যদিকে সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া—দুই দিকই এখন এই ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আপাতত কী অবস্থায়?
এই মুহূর্তে মূল বিষয় হল, দমকল দফতর অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতির অভিযোগে ভবনের বেসমেন্ট, ষষ্ঠ ও সপ্তম তলা খালি করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশের উপর আপাতত আদালতের স্থগিতাদেশ রয়েছে।
পরবর্তী শুনানিতে আদালত কী সিদ্ধান্ত দেয় এবং ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘাটতিগুলি কীভাবে মেটানো হয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।
