জলপাইগুড়িতে বজ্রপাতে দু’জনের মৃত্যু, গরুমারায় প্রাণ গেল মাহুতের
জলপাইগুড়ি: আচমকা ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতে জলপাইগুড়ি জেলায় পৃথক দুটি ঘটনায় মৃত্যু হল দু’জনের। বুধবার দুপুরে গরুমারা জাতীয় উদ্যানের ভিতরে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে এক মাহুতের। একই দিনে ধূপগুড়ির গাদং এলাকায় মাঠে গরু আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয়েছে এক মহিলার। পরপর দুটি ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গরুমারা জাতীয় উদ্যানে মৃত মাহুতের নাম অর্জুন ওঁরাও (৪০)। জানা গিয়েছে, বুধবার দুপুরে হাতি নিয়ে জঙ্গলে টহলে ছিলেন তিনি। সেই সময় আচমকা আকাশ কালো করে প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। হাতি থেকে নেমে একটি গাছের নিচে আশ্রয় নেন অর্জুন। সেখানেই বজ্রপাত হলে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।
ঘটনার পর অন্য মাহুতরা তাঁকে উদ্ধার করে চালসা মঙ্গলবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, ধূপগুড়ির গাদং-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের গোলাপ মুন্সী মোড় এলাকায় বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয়েছে রত্না রায়ের। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার দুপুরে তিনি অন্য এক মহিলার সঙ্গে কৃষিজমিতে গরু আনতে গিয়েছিলেন। সেই সময় আচমকা বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান রত্না।
স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে ধূপগুড়ি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই ঘটনায় আরও এক মহিলা আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
একই দিনে জেলার দুই প্রান্তে বজ্রপাতে দু’জনের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলিতে জলপাইগুড়ি-সহ উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল। ফলে ঝড়-বৃষ্টির সময় খোলা মাঠ, গাছের নিচে বা জঙ্গলের মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না থাকার পরামর্শই ফের সামনে আসছে।
