09/10/2026 Latest News, Breaking News & West Bengal Updates
কলকাতা-হাওড়া পুরভোটে একাই লড়বে বিজেপি, জোটের সম্ভাবনা খারিজ
পশ্চিমবঙ্গ

কলকাতা-হাওড়া পুরভোটে একাই লড়বে বিজেপি, জোটের সম্ভাবনা খারিজ

News Bangla Live 24 September 12, 2026 1 min read

কলকাতা: আসন্ন কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা নির্বাচনে কোনও শরিক দলের সঙ্গে আসন সমঝোতায় না গিয়ে একক শক্তিতেই লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, জাতীয় স্তরে কোনও রাজনৈতিক সমঝোতা থাকলেও তার প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের পুরভোটে পড়বে না। ফলে তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতাদের নিয়ে গঠিত ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই-এর সঙ্গে পুরভোটে বিজেপির জোটের সম্ভাবনাও আপাতত কার্যত খারিজ হয়ে গেল।

বিজেপির এই সিদ্ধান্তের পিছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে আসছে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির উপর ভরসা করে পুরভোটে লড়াই করার পরিকল্পনা। দলীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, বিধানসভা নির্বাচনের পর কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোটকে নিজেদের সংগঠন ও জনভিত্তি যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কলকাতা পুরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রার্থী দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েও প্রস্তুতি চলছে।

কেন জোটে যাচ্ছে না বিজেপি?

সম্প্রতি তৃণমূলের একাধিক বিদ্রোহী সাংসদ এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার পর জাতীয় স্তরে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র সঙ্গে তাদের যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। সেই সূত্রে পশ্চিমবঙ্গের পুরভোটেও বিজেপি ও এনসিপিআই-এর মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের অবস্থান, বাংলার পুরভোটে কোনও জোটসঙ্গীর প্রয়োজন নেই এবং দল নিজেদের শক্তিতেই লড়বে।

বিজেপির একাংশের যুক্তি, এতদিন যাঁদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই হয়েছে, সেই তৃণমূলের প্রাক্তন নেতাদের সঙ্গে পুরভোটে হাত মেলালে দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে পুরভোটের প্রচারে দুর্নীতির অভিযোগ এবং নাগরিক পরিষেবার মতো বিষয়কে সামনে রেখে নিজেদের পৃথক রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরতে চাইছে বিজেপি।

কলকাতা-হাওড়ায় কী প্রস্তুতি?

কলকাতা পুরভোটের সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে। হাওড়ার দায়িত্বে রয়েছেন বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা। নতুন ওয়ার্ড বিন্যাসকে সামনে রেখে বুথস্তরে সংগঠন আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দলের প্রচারে পুর পরিষেবা, রাস্তা, নিকাশি, জঞ্জাল পরিষ্কার, পানীয় জল ও শহরের পরিকাঠামোর মতো স্থানীয় বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এবারের পুরভোটে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কলকাতায় ওয়ার্ডের সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে ২০৯ এবং হাওড়ায় ৫০ থেকে বেড়ে ৬৮ করার প্রক্রিয়া চলছে। নতুন সীমানা অনুযায়ী ভোটার বিন্যাস ও বুথভিত্তিক রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে পুরভোটের আগে সব দলকেই নতুন করে সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।

কবে হতে পারে পুরভোট?

রাজ্য নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কলকাতা ও হাওড়া-সহ সংশ্লিষ্ট পুরসভাগুলির নির্বাচন ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে চূড়ান্ত ভোটের দিন এখনও ঘোষণা হয়নি। তার আগে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস এবং সংরক্ষণ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা।

ফলে কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোটে বিজেপির একক লড়াই শুধু প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নয়, নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি কতটা রয়েছে, তারও বড় পরীক্ষা হতে চলেছে। অন্যদিকে এনসিপিআই-এর মতো সম্ভাব্য শরিকের সঙ্গে সমঝোতার পথ বন্ধ রেখে বিজেপি শেষ পর্যন্ত কতটা ভোট নিজেদের দিকে টানতে পারে, সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে পুরভোটের ফলেই।

Leave a Comment