জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনে শুনানি, মমতা শিবিরের বক্তব্য পেশ
নয়াদিল্লি: তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম ও ঐতিহ্যবাহী ‘জোড়াফুল’ প্রতীক নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবার নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক শুনানিতে পৌঁছল। শনিবার দিল্লিতে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনে কমিশন। প্রথমে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ২০ মিনিটের সেই বৈঠকের পর কমিশনের তরফে ওই শিবিরের কাছে আরও কিছু নথি চাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবিরও কমিশনের সামনে নিজেদের বক্তব্য ও দাবি তুলে ধরে।
মমতা শিবিরের অবস্থান, তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় পরিচয় ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক দলের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। দলের প্রতিষ্ঠাতা নেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সংগঠনই তৃণমূলের স্বীকৃত রাজনৈতিক পরিচয়ের ধারক—এই অবস্থান থেকেই কমিশনের সামনে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরও তৃণমূলের নাম ও প্রতীকের উপর নিজেদের দাবি জানিয়েছে। কমিশনের কাছে তারা বিভিন্ন নথি ও সাংগঠনিক সমর্থনের তথ্য পেশ করেছে। বৈঠক শেষে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কমিশনের কাছে আবেদন করার কথা জানিয়েছেন। তবে কমিশনের তরফে তাঁদের কাছে আরও নথি চাওয়া হয়েছে।
কী নিয়ে মূল বিরোধ?
বিতর্কটি শুধু ‘জোড়াফুল’ প্রতীককে ঘিরে নয়। তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম, সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ এবং দলের সম্পদ ও তহবিলের অধিকার নিয়েও দুই পক্ষের দাবি রয়েছে। নির্বাচন কমিশন দুই পক্ষের জমা দেওয়া নথি, সাংগঠনিক অবস্থান এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য খতিয়ে দেখছে।
তবে শনিবারের শুনানির পরও কমিশন কোনও পক্ষের হাতে দলীয় নাম বা প্রতীক তুলে দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। ঋতব্রত শিবিরের কাছে অতিরিক্ত নথি চাওয়ার বিষয়টি থেকে স্পষ্ট, পুরো প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি।
উপনির্বাচনের আগে বাড়ছে গুরুত্ব
এই বিতর্কের গুরুত্ব আরও বেড়েছে আসন্ন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনকে ঘিরে। ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন হওয়ায় দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে কমিশনের অবস্থান রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এরই মধ্যে ঋতব্রত শিবিরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী হলে তাঁকে সমর্থন করার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে একদিকে দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে কমিশনে আইনি লড়াই, অন্যদিকে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনকে ঘিরে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান—দুই সমান্তরাল বিষয়েই নজর রয়েছে।
এখন নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাজনৈতিক মহলের। দুই পক্ষের বক্তব্য ও নথি পর্যালোচনার পরই কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে। এই মুহূর্তে ‘জোড়াফুল’ প্রতীক বা তৃণমূলের দলীয় নাম কোনও পক্ষের হাতে চলে গিয়েছে—এমন কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
