তারাতলা গোডাউন বিপর্যয়ে পুরসভার আধিকারিক গ্রেফতার, নকশা অনুমোদনের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ
কলকাতা: তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে ১৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে আরও বড় পদক্ষেপ। এবার কলকাতা পুরসভার এক সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল। ধৃতের নাম আমিনুর শেখ। তিনি কলকাতা পুরসভার ৯ নম্বর বরোর সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন এবং যে ৮০ নম্বর ওয়ার্ডে নির্মীয়মাণ গোডাউনটি ভেঙে পড়েছিল, সেই এলাকার দায়িত্বেও ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার গড়িয়ার বিধানপল্লিতে নিজের ফ্ল্যাট থেকেই আমিনুর শেখকে গ্রেফতার করা হয়। তারাতলার নির্মীয়মাণ গোডাউনটি কী ভাবে অনুমোদন পেল, নির্মাণের সময় পুরসভার নজরদারি কতটা ছিল এবং নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে তাঁর কী ভূমিকা ছিল—এই সব বিষয়ই এখন তদন্তের আওতায়।
ঘটনার পর নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য চেয়ে কলকাতা পুরসভাকে নোটিস দিয়েছিল পুলিশ। পুরসভার তরফে তদন্তকারীদের জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট গোডাউনের নকশা অনুমোদনের সঙ্গে আমিনুর শেখের ভূমিকা ছিল। সেই তথ্যের পরই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং পরে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
নকশা ও নির্মাণ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন
তারাতলার এই গোডাউন নির্মাণকে ঘিরে প্রথম থেকেই একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। নির্মাণাধীন কাঠামোটির নকশায় ত্রুটি ছিল কি না, নির্মাণের আগে প্রয়োজনীয় মাটি পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না এবং অনুমোদিত নকশা মেনেই কাজ চলছিল কি না—এই বিষয়গুলি তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন। আগের তদন্তে নির্মাণের নকশা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার কথাও সামনে এসেছিল।
শুধু নকশা অনুমোদন নয়, নির্মাণকাজ চলাকালীন সংশ্লিষ্ট পুর আধিকারিকদের নজরদারি কতটা ছিল, সেই প্রশ্নও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আমিনুর শেখের গ্রেফতারের পর পুরসভার অভ্যন্তরীণ অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত আরও এগোতে পারে।
এর আগে গ্রেফতার একাধিক
তারাতলার ঘটনায় এর আগেও নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন গোডাউনের জমির লিজ়প্রাপক সংস্থার মালিক শম্ভুনাথ বেহরা, নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি এবং কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ আরও কয়েকজন। জুলাই মাসে ছয় অভিযুক্তকে ফের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর খবরও সামনে এসেছিল।
২৪ জুন তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউনের কাঠামো ভেঙে পড়ার ঘটনায় বহু শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়েছিলেন। উদ্ধারকাজের পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ হয়। আহত হন আরও অনেকে। ঘটনার পর থেকেই নির্মাণের অনুমোদন, নকশা এবং পুরসভার নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
আমিনুর শেখের গ্রেফতারের ফলে তদন্ত এবার আরও গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পৌঁছল। নির্মাণের অনুমোদন থেকে শুরু করে বাস্তবে কাজের সময় কী ধরনের নজরদারি হয়েছিল, কোথাও নিয়ম ভাঙা হয়েছিল কি না এবং সেই অনিয়মের সঙ্গে কারা যুক্ত—তদন্তে তারই উত্তর খোঁজা হচ্ছে। তবে কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দোষী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
এখন নজর, আমিনুর শেখকে জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তকারীরা কী তথ্য পান এবং তার ভিত্তিতে এই মামলায় আরও কারও বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয় কি না।
