নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে কংগ্রেসের প্রার্থী ঘোষণা, প্রার্থী মিলন ও আবদুল্লাহিল কাফি
কলকাতা: দুর্গাপুজোর মরশুমের আগেই পশ্চিমবঙ্গে জোড়া বিধানসভা উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়ে গিয়েছে। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করল কংগ্রেস। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে দলীয় প্রার্থী করা হয়েছে মিলন প্রধানকে। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের রেজিনগর থেকে কংগ্রেসের প্রার্থী মহম্মদ আবদুল্লাহিল কাফি। কংগ্রেসের প্রার্থিতালিকায় অনুমোদন দিয়েছেন দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্রেই ভোটগ্রহণ হবে। ভোটগণনা ও ফল ঘোষণা হবে ৯ অক্টোবর। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৬ সেপ্টেম্বর। ফলে হাতে খুব বেশি সময় না থাকায় প্রার্থী ঘোষণার পর দুই কেন্দ্রেই রাজনৈতিক প্রচার ও সাংগঠনিক তৎপরতা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কেন উপনির্বাচন?
নন্দীগ্রাম আসনটি খালি হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর বিধায়ক পদ ছাড়ার পর। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেও জয়ী হওয়ার পর তিনি ভবানীপুর আসনটি ধরে রাখেন এবং নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেন। সেই কারণেই ওই কেন্দ্রে উপনির্বাচন প্রয়োজন হয়েছে।
অন্যদিকে, রেজিনগর কেন্দ্রটিও বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের পদত্যাগের পর শূন্য হয়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হুমায়ুন কবীর রেজিনগরের পাশাপাশি নওদা কেন্দ্র থেকেও জয়ী হয়েছিলেন। পরে রেজিনগর আসন ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
দুই কেন্দ্রেই কংগ্রেসের প্রার্থী বদল
এবারের উপনির্বাচনে দুই কেন্দ্রেই নতুন মুখের উপর ভরসা করেছে কংগ্রেস। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে কংগ্রেসের প্রার্থী ছিলেন শেখ জারিয়াতুল হোসেন। তিনি ৭৯৪টি ভোট পেয়েছিলেন। রেজিনগরে কংগ্রেসের প্রার্থী ছিলেন শেখ জিল্লু, যিনি চার হাজারের কিছু বেশি ভোট পেয়েছিলেন। উপনির্বাচনে দুই কেন্দ্রেই প্রার্থী বদল করল দল।
প্রার্থী ঘোষণার ক্ষেত্রে কংগ্রেস এবার অন্য দলগুলির তুলনায় এগিয়ে গেল। এখনও তৃণমূল ও বিজেপি তাদের প্রার্থীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি। ফলে দুই কেন্দ্রে কংগ্রেসের প্রার্থী ঘোষণার পর এখন নজর তৃণমূল ও বিজেপির প্রার্থী বাছাইয়ের দিকে।
বিশেষ করে নন্দীগ্রামকে ঘিরে রাজনৈতিক আগ্রহ বেশি। অতীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর লড়াইয়ের কারণে এই কেন্দ্র রাজ্য রাজনীতিতে আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। এবার শুভেন্দু অধিকারীর আসন ছাড়ার পর উপনির্বাচন ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক লড়াইয়ের মঞ্চ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি তৃণমূলের দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে দুই শিবিরের বিরোধও এই উপনির্বাচনের আগে নতুন মাত্রা পেয়েছে।
এদিকে, বিজেপির তরফেও নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের জন্য প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। নন্দীগ্রামে একাধিক নাম নিয়ে দলের অভ্যন্তরে আলোচনা রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ৬ অক্টোবরের ভোটের আগে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে রাজনৈতিক লড়াই ধীরে ধীরে জমে উঠছে। কংগ্রেস প্রথমে প্রার্থী ঘোষণা করে ময়দানে নামলেও তৃণমূল ও বিজেপির প্রার্থী ঘোষণার পর দুই কেন্দ্রের লড়াইয়ের প্রকৃত ছবি আরও স্পষ্ট হবে।
