জিটিএ-র তহবিলে ‘গরমিল’? ৪০০-র বেশি শিক্ষক নিয়োগ থেকে জলপ্রকল্প—তদন্তে এবার বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত
শিলিগুড়ি: পাহাড়ের প্রশাসনে দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে এবার তদন্তের গতি বাড়ার ইঙ্গিত। জিটিএ-র বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। আর তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকে রেয়াত করা হবে না—প্রয়োজনে গ্রেফতারির পাশাপাশি সরকারি টাকা উদ্ধার করা হবে বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মঙ্গলবার কালিম্পংয়ের প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে এই বার্তা দেন তিনি। খারাপ আবহাওয়ার কারণে তাঁর হেলিকপ্টার কালিম্পংয়ে অবতরণ করতে পারেনি। ফলে উত্তরকন্যা থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠকে অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী।
ঠিক কী নিয়ে তদন্ত?
জিটিএ-কে ঘিরে ওঠা অভিযোগের তালিকায় রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর মধ্যে অন্যতম ৪০০-র বেশি শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ। পাশাপাশি ‘অমৃত’ পানীয় জল প্রকল্পের টাকা ব্যবহারে অসঙ্গতি এবং পাহাড়ের বিভিন্ন জনজাতির উন্নয়নের জন্য তৈরি ১১টি উন্নয়ন পর্ষদের তহবিল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এই অভিযোগগুলির তদন্ত করছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বাধীন কমিটি। তবে তদন্ত এখনও চলছে। ফলে অভিযোগগুলিকে প্রমাণিত দুর্নীতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, তদন্তে যেখানে সরকারি অর্থের অপব্যবহার বা দুর্নীতির প্রমাণ মিলবে, সেখানেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর এবং প্রয়োজনে গ্রেফতারির পাশাপাশি সরকারি অর্থ উদ্ধারের কথাও জানানো হয়েছে।
জিটিএ-তে প্রশাসনিক বদল
দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের পাশাপাশি জিটিএ-র প্রশাসনিক কাঠামোতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। আইএএস আধিকারিক স্মৃতিরঞ্জন মোহান্তিকে জিটিএ-র প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর আগে জিটিএ-র প্রশাসনিক পদগুলিতে একাধিক পদত্যাগের পর পাহাড়ের প্রশাসন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল।
নতুন প্রশাসকের অধীনে পাহাড়ে উন্নয়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে রাজ্য সরকার।
শুধু তদন্ত নয়, উন্নয়নের বার্তাও
জিটিএ-র আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে কড়া অবস্থানের পাশাপাশি পাহাড়ের উন্নয়ন নিয়েও একাধিক ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কালিম্পংয়ে একটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। আগামী সফরে প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা রয়েছে।
কালিম্পংয়ে স্বাস্থ্য পরিষেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি আবাসন, স্বাস্থ্যবিমা এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ৮,৩২৫টি ভূমির মালিক অথচ গৃহহীন পরিবারকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় বাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।
এছাড়া কালিম্পংয়ে ১ লক্ষ ১৫ হাজারের বেশি আয়ুষ্মান ভারত কার্ড সক্রিয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতায় না থাকা পরিবারগুলিকে রাজ্যের স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের আওতায় আনার কথাও বলা হয়েছে।
এখন নজর তদন্তের দিকে
পাহাড়ে উন্নয়নের পাশাপাশি জিটিএ-র আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ফেরানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ। শিক্ষক নিয়োগ থেকে পানীয় জল প্রকল্প এবং জনজাতি উন্নয়ন পর্ষদের তহবিল—একাধিক ক্ষেত্রে ওঠা অভিযোগের তদন্ত শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে, কোথায় অনিয়ম হয়েছে এবং তার জন্য কে বা কারা দায়ী।
তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সত্যিই এফআইআর, গ্রেফতার এবং সরকারি অর্থ উদ্ধারের মতো পদক্ষেপ করা হয় কি না, এখন সেই দিকেই নজর পাহাড়বাসীর।
