আকাশে ভারতের নতুন ‘চোখ’, ইসরোর সফল উৎক্ষেপণে কক্ষপথে EOS-05
শ্রীহরিকোটা: মহাকাশ গবেষণায় আরও একটি বড় সাফল্য পেল ভারত। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর জিএসএলভি-এফ১৭ রকেট সফলভাবে EOS-05 ভূ-পর্যবেক্ষণ উপগ্রহকে নির্ধারিত সাব-জিওসিঙ্ক্রোনাস ট্রান্সফার অরবিট বা সাব-জিটিওতে স্থাপন করেছে। ৪ সেপ্টেম্বর ভোর ২টা ৫৫ মিনিটে শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে এই উৎক্ষেপণ করা হয়।
ইসরোর তথ্য অনুযায়ী, জিএসএলভি-এফ১৭ হল ভারতের জিওসিঙ্ক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকলের ১৯তম উড়ান। এই অভিযানে রকেটটি EOS-05-কে নির্ধারিত সাব-জিটিওতে সফলভাবে পৌঁছে দেয়। এরপর উপগ্রহটি নিজস্ব প্রপালশন ব্যবস্থার সাহায্যে চূড়ান্ত কক্ষপথে যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ EOS-05?
EOS-05 একটি অত্যাধুনিক ভূ-পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ। ইসরোর দাবি অনুযায়ী, এটি জিওসিঙ্ক্রোনাস কক্ষপথ থেকে ভারতের প্রথম ইমেজিং উপগ্রহ। প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতার এই ধরনের কক্ষপথে থাকা উপগ্রহ কোনও নির্দিষ্ট বিস্তীর্ণ অঞ্চলের উপর দীর্ঘ সময় ধরে নজর রাখতে পারে। ফলে সাধারণ নিম্ন-কক্ষপথের উপগ্রহের তুলনায় নির্দিষ্ট এলাকার ঘন ঘন পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।
EOS-05-এর মাধ্যমে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগের নজরদারি, কৃষি, ভূমি ব্যবহার, পরিবেশ ও জলসম্পদ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহে নতুন সুবিধা তৈরি হতে পারে। বিস্তীর্ণ এলাকার পরিস্থিতি দ্রুত পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রেও এই উপগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
উপগ্রহটির ওজন প্রায় ২,৩৬৭ কিলোগ্রাম। এত ভারী উপগ্রহকে উচ্চ কক্ষপথের উদ্দেশ্যে পাঠাতে জিএসএলভি-এফ১৭-এর মতো রকেট ব্যবহার করা হয়েছে। এই উৎক্ষেপণ ইসরোর উচ্চ কক্ষপথে ভারী উপগ্রহ পাঠানোর সক্ষমতার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ইসরোর জন্য কেন বিশেষ এই অভিযান?
EOS-05-এর সাফল্য ইসরোর জন্য আরও একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে ২০২১ সালে EOS-03 উপগ্রহকে জিএসএলভি-এফ১০ রকেটের মাধ্যমে উৎক্ষেপণের চেষ্টা সফল হয়নি। এবার জিএসএলভি-এফ১৭-এর মাধ্যমে EOS-05-কে নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছে দিয়ে সেই ধরনের মিশনে বড় সাফল্য পেল ইসরো।
ইসরোর সরকারি তালিকা অনুযায়ী, ৪ সেপ্টেম্বরের EOS-05 উৎক্ষেপণটি ২০২৬ সালে সংস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ অভিযান এবং জিএসএলভি সিরিজের ১৯তম উড়ান।
ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে আরও এক ধাপ
EOS-05-এর সফল উৎক্ষেপণ ভারতের ভূ-পর্যবেক্ষণ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি উচ্চ কক্ষপথে দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। দীর্ঘ সময় ধরে নির্দিষ্ট অঞ্চলের উপর নজর রাখার ক্ষমতার কারণে এই উপগ্রহ থেকে পাওয়া তথ্য ভবিষ্যতে আবহাওয়া, কৃষি, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং বিভিন্ন জাতীয় প্রয়োজনের ক্ষেত্রে কাজে লাগতে পারে।
ইসরোর এই সাফল্য ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উঠে এসেছে।
