জলপাইগুড়িতে সিপিএমের জেলা দফতরে হামলার অভিযোগ, বিজেপি-এবিভিপির বিরুদ্ধে সরব বামেরা
জলপাইগুড়ি: রাতের অন্ধকারে জলপাইগুড়িতে সিপিএমের জেলা কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল। সোমবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ জলপাইগুড়ির ডিবিসি রোডে অবস্থিত সিপিএমের জেলা দফতর সুবোধ সেন ভবনে একদল দুষ্কৃতী হামলা চালায় বলে অভিযোগ। সিপিএমের দাবি, হামলাকারীরা বিজেপি ও আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত। তবে সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি ও এবিভিপি।
সিপিএমের অভিযোগ, রাতের ওই হামলায় দলীয় কার্যালয়ের গেট ভাঙার চেষ্টা করা হয়। বাইরে থেকে ইট-পাটকেল ও কাচ ছোড়ার পাশাপাশি পার্টি অফিসের সামনে আগুন লাগানোর চেষ্টা হয়। দলীয় পতাকাতেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। কার্যালয়ের ভিতরে থাকা কর্মীরা দ্রুত গেট বন্ধ করে দেন। এরপর হামলাকারীরা গেট ভাঙার চেষ্টা করে এবং হুমকিও দেয় বলে সিপিএমের দাবি।
ঘটনার সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বলে জানা গিয়েছে। এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, হামলার সময় দলীয় কার্যালয়ের জানালার কাচ এবং শহিদ বেদিতেও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এসব ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ বিবরণ পুলিশি তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
ঘটনার পর সিপিএমের জেলা নেতৃত্ব সরাসরি বিজেপি ও আরএসএসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে। জেলা সম্পাদক পীযূষ মিশ্রের দাবি, হামলাকারীরা লাঠি ও পেট্রল নিয়ে এসেছিল। তাঁর অভিযোগ, লাল পতাকা ছিড়ে ফেলা ও পোড়ানোর পাশাপাশি দলীয় কার্যালয়েও হামলা চালানো হয়। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও সামাজিক মাধ্যমে ঘটনার একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করে বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তবে ওই ভিডিয়োর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
ঘটনার একটি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও সামনে এসেছে। সোমবার জলপাইগুড়িতে এসএফআই এবং এবিভিপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল বলে জানা যায়। এরপর রাতের দিকে সিপিএমের জেলা কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে। তবে সোমবার দিনের ছাত্র সংগঠনগুলির সংঘর্ষের সঙ্গে রাতের হামলার সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। বিষয়টি তদন্তের আওতায় রয়েছে।
অন্যদিকে, বিজেপি ও এবিভিপি সিপিএমের তোলা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য পলেন ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁরা ঘটনাস্থলের দিকে যাওয়ার সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় এবং তিনি পুলিশের কাছে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ফলে হামলার প্রকৃত ঘটনায় কারা জড়িত, তা এখনও তদন্তের বিষয়।
ঘটনার প্রতিবাদে আজ, মঙ্গলবার বিকেল ৪টেয় জলপাইগুড়িতে মিছিলের ডাক দিয়েছে সিপিএম। সুবোধ সেন ভবন থেকেই এই প্রতিবাদ মিছিল বের করার কথা। দলীয় কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিও জানিয়েছে বাম সংগঠন।
একদিকে ছাত্র সংগঠনগুলির সংঘর্ষ, অন্যদিকে রাতের অন্ধকারে একটি রাজনৈতিক দলের জেলা কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ—পরপর এই ঘটনায় জলপাইগুড়ির রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের বাইরে এখন পুলিশের তদন্তেই স্পষ্ট হবে, রাতের ওই হামলার পিছনে কারা ছিল এবং কী কারণে এই হামলা চালানো হয়েছিল।
তবে এখনও পর্যন্ত কোনও পক্ষকে হামলার জন্য চূড়ান্তভাবে দায়ী বলে ঘোষণা করা হয়নি। তদন্তের ফল এবং পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর।
