জলপাইগুড়ি জিলা স্কুলে প্রধান শিক্ষক নিগ্রহকাণ্ডে চার পড়ুয়ার টিসি, শর্তসাপেক্ষে জামিন
জলপাইগুড়ি: প্রধান শিক্ষককে নিগ্রহের অভিযোগে জলপাইগুড়ি জিলা স্কুলের চার দশম শ্রেণির পড়ুয়ার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের পর এবার নতুন মোড়। স্কুল থেকে চার পড়ুয়ার টিসি দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। এরপর পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে পেশ করলে শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৮ সেপ্টেম্বর। শিক্ষক দিবস উপলক্ষে স্কুলে বিশেষ মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই খাবারে দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়। অভিযোগ, পরিস্থিতির মধ্যে প্রধান শিক্ষক ধর্মচাঁদ বারুইয়ের সঙ্গে কয়েকজন পড়ুয়ার বচসা হয়। পরে প্রধান শিক্ষকের উপর পড়ুয়াদের একাংশ চড়াও হয় এবং তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় আহত প্রধান শিক্ষককে হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে হয়।
ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। স্কুল শিক্ষা দফতরের তরফে রিপোর্ট তলব করা হয়। পাশাপাশি ঘটনার ভিডিয়ো ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত পড়ুয়াদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এরপর স্কুলে যান রাজ্যের স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। প্রশাসনিক আধিকারিক, শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকের পর চার পড়ুয়ার বিরুদ্ধে টিসি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করেন, ওই পড়ুয়ারা অন্য স্কুলে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে, তবে জলপাইগুড়ি জিলা স্কুলে আর পড়তে পারবে না। তাঁদের পড়াশোনা যাতে বন্ধ না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়।
পরবর্তীতে চার পড়ুয়াকে পুলিশ গ্রেফতার করে। নাবালক হওয়ায় তাঁদের সরকারি হোমে নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছিল। সোমবার তাঁদের জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে পেশ করা হলে শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হয়। জামিনের শর্ত হিসেবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাউন্সেলিংয়ে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাকে ঘিরে অবশ্য পাল্টা অভিযোগও সামনে এসেছে। পড়ুয়াদের পরিবারের দাবি, ঘটনার আগে তাঁদের সন্তানদের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের আচরণ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। চার পড়ুয়ার মধ্যে দু’জনকে প্রধান শিক্ষক মারধর করেছিলেন বলেও পাল্টা অভিযোগ উঠেছে। ফলে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
অন্যদিকে, শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষককে মারধরের মতো ঘটনা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে প্রশাসনের তরফে বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার পূর্ণ প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে স্কুলে শৃঙ্খলা ও শিক্ষক-ছাত্র সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
জলপাইগুড়ি জিলা স্কুলের এই ঘটনা ইতিমধ্যেই জেলা জুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। চার পড়ুয়ার বিরুদ্ধে স্কুলের সিদ্ধান্ত, পুলিশের পদক্ষেপ এবং পরে আদালতের শর্তসাপেক্ষ জামিন—সব মিলিয়ে ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে এখন নজর রয়েছে।
