09/10/2026 Latest News, Breaking News & West Bengal Updates
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইঝির অস্বাভাবিক মৃত্যু, রামপুরহাটের বাড়ি থেকে উদ্ধার ঝুলন্ত দেহ
পশ্চিমবঙ্গ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইঝির অস্বাভাবিক মৃত্যু, রামপুরহাটের বাড়ি থেকে উদ্ধার ঝুলন্ত দেহ

News Bangla Live 24 September 1, 2026 1 min read

রামপুরহাট: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইঝি বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বীরভূমের রামপুরহাটে। মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর রামপুরহাটের কুসুম্বা গ্রামের বাড়ি থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে।

বৃষ্টি মুখোপাধ্যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামাতো ভাই নীহার মুখোপাধ্যায়ের মেয়ে। নীহার মুখোপাধ্যায় রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কুসুম্বা গ্রামেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামার বাড়ি রয়েছে।

বাড়ির দোতলা থেকে উদ্ধার দেহ

পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ির দোতলার একটি অংশ থেকে বৃষ্টির ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে রামপুরহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দেহ উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্ত এবং তদন্তের পরই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

বিবাহবিচ্ছেদের মামলা চলছিল

বৃষ্টি বিবাহিতা ছিলেন। পারিবারিক সূত্রের দাবি, স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক সমস্যার কারণে বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি বাবার বাড়িতে থাকছিলেন। তাঁর স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের মামলাও চলছিল বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বৃষ্টির একটি সন্তান রয়েছে বলেও সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে।

মানসিক অবসাদ নিয়ে পরিবারের দাবি

পরিবারের দাবি, বৃষ্টি বেশ কয়েক বছর ধরে মানসিক অবসাদের মধ্যে ছিলেন এবং তাঁর চিকিৎসাও চলছিল। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ওষুধ খাচ্ছিলেন বলেও একটি প্রতিবেদনে পরিবারের সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার দিন সকালে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা ছিল এবং পরে তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

কিছু সংবাদমাধ্যমে পরিবারের পক্ষ থেকে এর আগেও আত্মহত্যার চেষ্টা করার দাবি করা হয়েছে। তবে এই সমস্ত তথ্য পুলিশের তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া এখনও বাকি। তাই মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ হিসেবে মানসিক অবসাদকে এখনই নিশ্চিত করা হচ্ছে না।

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চাকরি হারানোর বিষয়

বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়ের নাম রাজ্যের নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলাতেও উঠে এসেছিল। তিনি বোলপুরের একটি স্কুলে গ্রুপ-সি পদে কর্মরত ছিলেন বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে নিয়োগ সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ার জেরে তিনি চাকরি হারান।

তবে চাকরি হারানোর প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য রয়েছে। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি আদালতের নির্দেশের পর চাকরি হারান; অন্য একটি প্রতিবেদনে পরিবারের দাবি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়েছিলেন। তাই এই বিষয়ে কোনও একক ব্যাখ্যাকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরা হচ্ছে না।

তদন্তে এখন কী উঠে আসে, নজর সেদিকেই

বৃষ্টির মৃত্যুকে ঘিরে পারিবারিক সমস্যা, বিবাহবিচ্ছেদের মামলা, মানসিক অবসাদ এবং চাকরি সংক্রান্ত চাপ—বিভিন্ন বিষয় সামনে এলেও এগুলির কোনওটির সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত করছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে। আপাতত ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনাকে অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।

ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন। নতুন কোনও নির্ভরযোগ্য তথ্য সামনে এলে প্রতিবেদনে তা আপডেট করা হবে।

Leave a Comment