পটাশপুরে মাওবাদী নেতা অসীম মণ্ডল ধৃত, ছিল ২.২০ কোটি টাকার পুরস্কার
পূর্ব মেদিনীপুর: দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা সংস্থার নজরে থাকা সিপিআই (মাওবাদী)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশকে পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর থেকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে পটাশপুরের লালাট এলাকায় তাঁর শ্বশুরবাড়ির কাছ থেকে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) তাঁকে ধরে বলে একাধিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
অসীম মণ্ডলকে সিপিআই (মাওবাদী)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি-১-এর সম্পাদক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার জঙ্গলঘেরা এলাকায় তাঁর সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি।
তাঁর বিরুদ্ধে ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশায় মোট ২ কোটি ২০ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঝাড়খণ্ডে ১ কোটি টাকা এবং ওড়িশায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা পুরস্কারের কথা জানা গিয়েছে।
এসটিএফের অভিযানে অসীম মণ্ডলের কাছ থেকে মাওবাদী সংগঠনের বইপত্র, নথি এবং বৈদ্যুতিন যোগাযোগের সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে নজরে রাখা হয়েছিল এবং প্রযুক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
পুলিশের নথি অনুযায়ী, পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা এলাকার বাসিন্দা অসীম মণ্ডল ১৯৮০-এর দশক থেকেই অতিবামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে পিপলস্ ওয়ার গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হন এবং সিপিআই (মাওবাদী) গঠনের পর পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডে সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদক হন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাঁর নাম জঙ্গলমহল ও লালগড় আন্দোলনের সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থার নথি ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ২০১১ সালে মাওবাদী নেতা কিষেণজির মৃত্যুর পরও অসীম মণ্ডল দীর্ঘ সময় ধরে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানা যায়।
তবে অসীম মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়েছে, নাকি তিনি আত্মসমর্পণ করেছেন, তা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। বেশিরভাগ প্রতিবেদনে কলকাতা পুলিশের এসটিএফের হাতে তাঁকে গ্রেফতারের কথা বলা হলেও, ইউনাইটেড নিউজ অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে ঝাড়খণ্ড পুলিশ সদর দফতরের বক্তব্য উদ্ধৃত করে আত্মসমর্পণের কথা বলা হয়েছে। ফলে এই বিষয়ে সরকারি নথি বা পুলিশের বিস্তারিত বিবৃতি সামনে না আসা পর্যন্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
অসীম মণ্ডলকে হেফাজতে নেওয়ার পর তাঁর সঙ্গে যুক্ত মাওবাদী সংগঠনের বর্তমান যোগাযোগ, পুরনো নেটওয়ার্ক, অর্থের উৎস এবং অন্যান্য সহযোগীদের বিষয়ে তদন্তকারীরা তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন বলে সূত্রের খবর। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে এই অভিযানের আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।
