উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়াকে ঘিরে উত্তেজনা, AIDSO-ABVP সংঘাতের অভিযোগ
শিলিগুড়ি: প্রথম বর্ষের MBBS পড়ুয়াদের ভর্তি ও কাউন্সেলিং প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল শিলিগুড়ির উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। অভিযোগ, কলেজ চত্বরে AIDSO-র সঙ্গে ABVP-র সদস্যদের বচসা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ঘটনায় কয়েকজন পড়ুয়া ও জুনিয়র চিকিৎসক আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ABVP। ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে চাপানউতোর।
জানা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে প্রথম বর্ষের MBBS পড়ুয়াদের ভর্তি প্রক্রিয়া চলছিল। নতুন পড়ুয়াদের সহযোগিতার জন্য AIDSO-র সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন চিকিৎসক ও মেডিক্যাল পড়ুয়া Lecture Theatre-1 এলাকায় একটি হেল্প ডেস্ক করেছিলেন। সেখানেই ABVP-র সদস্যদের সঙ্গে তাঁদের বচসা শুরু হয় বলে অভিযোগ।
কী অভিযোগ AIDSO-র?
AIDSO-র অভিযোগ, বাইরে থেকে আসা ABVP-র সদস্যরা হেল্প ডেস্কে থাকা ছাত্র ও জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে প্রথমে বচসায় জড়িয়ে পড়েন। পরে পরিস্থিতি হাতাহাতিতে গড়ায়। সংগঠনের দাবি, ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। মোবাইল ফোন ও একটি স্টেথোস্কোপ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
এছাড়াও কয়েকজন মহিলা ইন্টার্নের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে AIDSO। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঘটনায় দুই ছাত্রী ও এক ছাত্র আহত হয়েছেন।
তবে এই অভিযোগগুলির কোনওটিই এখনও তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে বলে পুলিশ জানায়নি।
ABVP-র পাল্টা বক্তব্য
অন্যদিকে, AIDSO-র তোলা হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ABVP। সংগঠনের দাবি, ভর্তি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত কিছু ছাত্র প্রশাসনিক কাজে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে পরিচয়পত্র ছাড়া কিছু ব্যক্তি ক্যাম্পাসে ঢোকার চেষ্টা করাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় বলে ABVP-র বক্তব্য।
ফলে কে প্রথমে উত্তেজনা তৈরি করেছিল বা সংঘর্ষের সূত্রপাত কীভাবে—তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা।
ঘটনাস্থলে পুলিশ
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার খবর পেয়ে মেডিক্যাল আউটপোস্টের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং ভর্তি প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তা খতিয়ে দেখা হবে। পুলিশ এখনও বাইরে থেকে আসা ব্যক্তিদের হামলার বিষয়ে কোনও নিশ্চিত প্রমাণ পায়নি বলেও জানানো হয়েছে।
প্রতিবাদে AIDSO
ঘটনার প্রতিবাদে AIDSO-র পক্ষ থেকে শিলিগুড়িতে মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মেডিক্যাল কলেজে ছাত্র, ইন্টার্ন ও জুনিয়র চিকিৎসকদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে কয়েকটি চিকিৎসক সংগঠনও মেডিক্যাল পড়ুয়া ও জুনিয়র চিকিৎসকদের উপর হামলার অভিযোগের নিন্দা করেছে।
তদন্তেই স্পষ্ট হবে ঘটনার প্রকৃত কারণ
উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি প্রক্রিয়ার মধ্যে এই ধরনের উত্তেজনার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও ছাত্রছাত্রীদের সুরক্ষা নিয়ে। তবে AIDSO ও ABVP—দুই পক্ষের বক্তব্যে বিস্তর ফারাক থাকায় ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংঘর্ষের জন্য কারা দায়ী, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
পুলিশের তদন্ত ও লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর।
