নেপাল যাওয়ার আগে পানিট্যাঙ্কিতে ধৃত আফগান যুবক, উদ্ধার জাল ভারতীয় নথি
আফগান নাগরিক আবদুল্লা খানের সঙ্গে গ্রেফতার ভারতীয় যুবক শঙ্কর বণিক, তদন্তে একাধিক প্রশ্ন
নিজস্ব সংবাদদাতা | শিলিগুড়ি | ২৮ আগস্ট ২০২৬
নেপাল যাওয়ার আগে শিলিগুড়ির পানিট্যাঙ্কি সীমান্তে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন এক আফগান নাগরিক। তাঁর কাছ থেকে একাধিক ভারতীয় পরিচয়পত্র ও নথি উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় তাঁর এক ভারতীয় সহযোগীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
ধৃত আফগান নাগরিকের নাম আবদুল্লা খান। তাঁর সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার বিধাননগরের দত্তাবাদ এলাকার বাসিন্দা শঙ্কর বণিককে। খড়িবাড়ি থানার পুলিশ দু’জনের বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।
পানিট্যাঙ্কি সীমান্তে কীভাবে ধরা পড়লেন?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নেপাল যাওয়ার উদ্দেশ্যে আবদুল্লা খান ও শঙ্কর বণিক শিলিগুড়ির কাছে পানিট্যাঙ্কি সীমান্তের ইমিগ্রেশন দফতরে পৌঁছন। সেখানে নথি যাচাইয়ের সময় আবদুল্লার নামে Lookout Circular (LOC) জারি থাকার বিষয়টি সামনে আসে।
এরপরই ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ দু’জনকে আটক করে খড়িবাড়ি থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয়। জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশির পর আবদুল্লার কাছ থেকে একাধিক ভারতীয় নথি উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
কী কী নথি উদ্ধার?
তদন্তকারীদের দাবি, আবদুল্লার কাছ থেকে পাওয়া গিয়েছে—
- আধার কার্ড
- ভোটার কার্ড
- ড্রাইভিং লাইসেন্স
- ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত নথি
- ভারতীয় পাসপোর্ট
নথিগুলির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে এবং এগুলি জালভাবে তৈরি করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন হাওড়ায় থাকার দাবি
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, আবদুল্লা খান বেশ কিছু বছর ধরে ভারতে ছিলেন। তিনি হাওড়ার শিবপুর এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ভারতে থাকার সুযোগ নিয়ে টাকার বিনিময়ে ভারতীয় পরিচয়পত্র ও অন্যান্য নথি তৈরি করানো হয়েছিল।
তবে কীভাবে এই নথিগুলি তৈরি করা হয়েছিল, কারা এর সঙ্গে যুক্ত এবং এই প্রক্রিয়ায় আরও কেউ জড়িত কি না—তা এখনও তদন্তাধীন।
নেপাল হয়ে থাইল্যান্ড যাওয়ার পরিকল্পনা?
তদন্তকারীদের সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, আবদুল্লা ও শঙ্করের নেপাল হয়ে থাইল্যান্ড যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁদের যাত্রার উদ্দেশ্য এবং বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনার নেপথ্যে কোনও বিশেষ কারণ ছিল কি না, সেই বিষয়েও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
তদন্তে আন্তর্জাতিক যোগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে
পানিট্যাঙ্কি ভারত-নেপাল সীমান্তের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রবেশপথ। ফলে এই ঘটনার নিরাপত্তাগত দিকটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, জাল ভারতীয় নথি তৈরির পিছনে কোনও সংগঠিত চক্র রয়েছে কি না এবং আবদুল্লার সঙ্গে অন্য কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর যোগাযোগ ছিল কি না। তাঁর বিদেশি যোগাযোগ সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও অপরাধমূলক বা সন্ত্রাসবাদী যোগ নিশ্চিত হয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
আদালতে পেশ, তদন্ত শুরু
ঘটনার পর আবদুল্লা খান ও শঙ্কর বণিককে শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে। খড়িবাড়ি থানার পুলিশ তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছে।
জাল নথিগুলি কোথা থেকে তৈরি করা হয়েছিল, এর পিছনে কারা রয়েছে, আবদুল্লা কীভাবে ভারতে এতদিন ছিলেন এবং নেপাল হয়ে তাঁর বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল—এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতেই তদন্ত এগোচ্ছে।
ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন। পুলিশের তদন্ত ও আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের ভিত্তিতেই মামলার আরও তথ্য সামনে আসবে।
