ভুয়ো চিকিৎসকের অভিযোগে মেডিক্যাল কাউন্সিল ঘিরে প্রশ্ন, পাঁচজনের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য দফতরের তদন্ত
কলকাতা: জাল চিকিৎসা-শংসাপত্র ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গে চিকিৎসা করার অভিযোগ ঘিরে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। অভিযোগের সূত্র ধরে পাঁচজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলের মাধ্যমে কীভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা চিকিৎসক হিসেবে নথিভুক্ত হওয়ার সুযোগ পেলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে কাউন্সিলের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলির সংগঠন।
জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত পাঁচজনের মধ্যে দু’জন উত্তর ২৪ পরগনা এবং তিনজন দক্ষিণ ২৪ পরগনায় চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছিলেন বলে অভিযোগ। তাঁদের বিরুদ্ধে বিহার থেকে পাওয়া ভুয়ো চিকিৎসা-ডিগ্রি বা নথি ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিল থেকে নথিভুক্তি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই স্বাস্থ্য দফতরের তরফে তদন্ত শুরু হয়েছে।
বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলির সংগঠনের দাবি, বিষয়টি বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়। সংগঠনের তরফে আরও কয়েকজন সন্দেহভাজন চিকিৎসকের তথ্য ও নথি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে কারও চিকিৎসাগত যোগ্যতা ও নথিপত্রে অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
অভিযোগের গুরুত্ব আরও বেড়েছে, কারণ সন্দেহভাজন কয়েকজন চিকিৎসক বাস্তবে রোগী দেখেছেন এবং চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের চিকিৎসাধীন অবস্থায় কয়েকজন রোগীর মৃত্যু এবং সরকারি স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগও সামনে এসেছে। তবে এই অভিযোগগুলি এখনও তদন্তাধীন এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও ব্যক্তিকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না।
এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, যদি জাল বা ভুয়ো শিক্ষাগত নথি ব্যবহার করে কেউ রাজ্যে চিকিৎসক হিসেবে নথিভুক্ত হয়ে থাকেন, তা হলে সেই নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় কোথাও গাফিলতি হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এই কারণেই কাউন্সিলের কাজকর্ম নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি উঠেছে।
এদিকে, আরও একটি ঘটনায় এক অভিযুক্তের নামও সামনে এসেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওই ব্যক্তির পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলের নথিভুক্তি থাকলেও তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার নথি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষের নথিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য দফতরের তদন্তে মূলত তিনটি বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে—অভিযুক্তদের শিক্ষাগত যোগ্যতার নথি আসল কি না, তাঁরা কীভাবে রাজ্যে চিকিৎসক হিসেবে নথিভুক্ত হলেন এবং নথিভুক্তির সময় প্রয়োজনীয় যাচাই যথাযথভাবে হয়েছিল কি না। পাশাপাশি, তাঁরা কোথায় কোথায় চিকিৎসা করেছেন এবং তাঁদের চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে কোনও রোগীর ক্ষতি বা আর্থিক অনিয়মের যোগ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
ঘটনাটি সামনে আসার পর চিকিৎসক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চিকিৎসকের যোগ্যতা ও নথিভুক্তির বিষয়টি সরাসরি রোগীর নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায়, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে চিকিৎসকদের নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।
এখন নজর রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের তদন্তের দিকে। পাঁচজনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কতটা সত্য, তাঁদের নথিভুক্তির ক্ষেত্রে কোনও অনিয়ম হয়েছিল কি না এবং মেডিক্যাল কাউন্সিলের কোনও আধিকারিক বা প্রক্রিয়াগত গাফিলতির প্রমাণ মেলে কি না—তদন্ত শেষ হলেই তার স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে।
