ভারত-চীন সীমান্তে ফের কূটনৈতিক তৎপরতা, অজিত ডোভাল–ওয়াং ই বৈঠকে শান্তি ও সীমান্ত সমাধানের বার্তা
নিউজ বাংলা লাইভ ২৪ | জাতীয় ডেস্ক | ২৫ আগস্ট ২০২৬
বেইজিং: ভারত ও চিনের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে ফের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হল। মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট বেইজিংয়ে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ও সীমান্ত বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ওয়াং ই-র মধ্যে ২৫তম দফার ‘স্পেশাল রিপ্রেজেন্টেটিভস’ বৈঠক হয়। বৈঠকে সীমান্ত পরিস্থিতি, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
সীমান্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনা
বৈঠকে ভারত ও চিনের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সীমান্ত প্রশ্ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। চিনা বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, আলোচনা ছিল বিস্তৃত, গভীর, বন্ধুত্বপূর্ণ এবং খোলামেলা। দুই দেশ সীমান্ত সমস্যার একটি ন্যায্য, যুক্তিসঙ্গত ও উভয়ের কাছে গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
ভারতের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, দুই দেশের সম্পর্কের অগ্রগতির পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
সীমান্ত শান্তিই ভারত-চিন সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি
২০২০ সালের পূর্ব লাদাখের সংঘর্ষের পর ভারত ও চিনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। এরপর কয়েক বছর ধরে সীমান্তে সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে টানাপোড়েন চলেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে সেনা প্রত্যাহার ও টহল সংক্রান্ত একটি সমঝোতার পর দুই দেশের সম্পর্কে ধীরে ধীরে বরফ গলতে শুরু করে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখাকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। অজিত ডোভাল ও ওয়াং ই-র সাম্প্রতিক বৈঠক সেই কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।
২০২৭ সালে পরবর্তী বৈঠক ভারতে
২৫তম দফার বৈঠকের পর দুই দেশ সীমান্ত নিয়ে আলোচনার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরবর্তী দফার বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক ২০২৭ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত হবে।
এর ফলে সীমান্ত সমস্যার সমাধানে সরাসরি কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা থাকছে। তবে দীর্ঘদিনের জটিল সীমান্ত বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি হবে কি না, তা এখনই বলা সম্ভব নয়।
সামনে কী?
ভারত ও চিন—দুই দেশই বর্তমানে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে। সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, মতপার্থক্য নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজাই আপাতত দুই দেশের কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের অন্যতম বিষয়।
২৫ আগস্টের বেইজিং বৈঠক তাই শুধু সীমান্ত সমস্যা নিয়ে আরেকটি আলোচনা নয়; বরং দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর ভারত-চিন সম্পর্ককে আরও স্থিতিশীল পথে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ।
নিউজ বাংলা লাইভ ২৪-এর প্রতিবেদন।
