কলকাতার ৯১৯ হোটেল-গেস্টহাউসে বন্ধের নোটিস, অগ্নিনিরাপত্তায় কড়া পদক্ষেপ
কলকাতা: দুর্গাপুজোর আগে কলকাতায় হোটেল ও গেস্টহাউসগুলির অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় পদক্ষেপ করল প্রশাসন। এখনও পর্যন্ত শহরের ৯৬০টি হোটেল ও গেস্টহাউস পরিদর্শন করে ৯১৯টিকে বন্ধের নোটিস দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, পরিদর্শন করা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে মাত্র ৪১টিকে নির্ধারিত অগ্নিনিরাপত্তা বিধি মেনে চলতে দেখা গিয়েছে।
কলকাতা পুরনিগম, রাজ্য দমকল ও জরুরি পরিষেবা দফতর এবং কলকাতা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে এই পরিদর্শন চলছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, দুর্গাপুজোর সময় শহরে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ার আগে হোটেল ও গেস্টহাউসগুলিতে অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা খতিয়ে দেখা।
শিখা ইন-এর অগ্নিকাণ্ডের পরেই বাড়ল নজরদারি
গত ১৯ আগস্ট মধ্য কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটে শিখা ইন-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু হয়। পাঁচতলা ওই পুরনো ভবনে একাধিক হোটেল ও গেস্টহাউস চলত। অগ্নিকাণ্ডের পর ভবনটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, সরু যাতায়াতের পথ এবং জরুরি বেরোনোর ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।
ওই ঘটনার পরেই কলকাতার হোটেল ও গেস্টহাউসগুলিতে অগ্নিনিরাপত্তা পরীক্ষা আরও জোরদার করা হয়। বর্তমানে শহরে প্রায় ৩,৭০০টি হোটেল ও গেস্টহাউস রয়েছে। এখনও পর্যন্ত তার একটি অংশ পরিদর্শন করা হয়েছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলিতেও পরিদর্শন চালানো হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।
নিয়ম না মানলে বন্ধ, তবে সংশোধনের সুযোগ
প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, ৯১৯টি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে দেওয়া নোটিসকে স্থায়ীভাবে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট হোটেল বা গেস্টহাউসগুলিকে প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক করতে হবে। এরপর নতুন করে অগ্নিনিরাপত্তা শংসাপত্র নিয়ে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার সুযোগ থাকবে। নিয়ম মেনে ব্যবস্থা ঠিক হলে পুনরায় চালু করার পথ খোলা রয়েছে।
তবে যেসব আবাসিক ভবনকে বেআইনিভাবে হোটেল বা গেস্টহাউসে রূপান্তর করা হয়েছে, সেগুলির ক্ষেত্রে নিয়ম আরও কঠোর হতে পারে। প্রশাসনের বক্তব্য, জননিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না।
শুধু হোটেল নয়, নজরে বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানও
অগ্নিনিরাপত্তা পরীক্ষার আওতা শুধু হোটেল-গেস্টহাউসে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বেশি মানুষের সমাগম হয় এমন শপিং মল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলিতেও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কলকাতার পাশাপাশি দার্জিলিং ও পশ্চিম বর্ধমানের মতো জেলাতেও এই ধরনের পরিদর্শন চলছে।
দুর্গাপুজোর আগে কলকাতায় পর্যটক ও দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। ফলে হোটেল, গেস্টহাউস এবং অন্যান্য জনবহুল জায়গায় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর রাখা এখন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। ৯৬০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯১৯টিকেই বন্ধের নোটিস পাওয়ার ঘটনা সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাস্তব পরিস্থিতি নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
প্রশাসনের পরবর্তী নজর এখন বাকি হোটেল ও গেস্টহাউসগুলির পরিদর্শন এবং ইতিমধ্যে নোটিস পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলি কত দ্রুত প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক করে, তার দিকে।
