09/10/2026 Latest News, Breaking News & West Bengal Updates
কলকাতায় খাদ্য নিরাপত্তা অভিযানে বড় পদক্ষেপ, ৪০ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত
পশ্চিমবঙ্গ

কলকাতায় খাদ্য নিরাপত্তা অভিযানে বড় পদক্ষেপ, ৪০ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত

News Bangla Live 24 September 10, 2026 1 min read

কলকাতা: দুর্গাপুজোর আগে কলকাতার রেস্তোরাঁ, মিষ্টির দোকান ও খাবারের প্রতিষ্ঠানগুলিতে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কড়া অভিযান চালাল কলকাতা পুরসভা। সপ্তাহব্যাপী এই অভিযানে শহরের ৫৯২টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়েছে। তার মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ৪০টি প্রতিষ্ঠানের খাদ্য লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১১২টি প্রতিষ্ঠানকে নোটিস দেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ১,২২৪ কেজি অনুপযুক্ত খাবার নষ্ট করা হয়েছে।

কলকাতা পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, খাদ্য নিরাপত্তা সপ্তাহকে কেন্দ্র করে শহরের রেস্তোরাঁ, হোটেল, মিষ্টির দোকান, বেকারি, শপিং মলের খাবারের জায়গা, বাজার ও ক্লাব-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এই অভিযান চালানো হয়। পরিদর্শনের সময় মোট ১৬১টি খাবারের নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে।

অভিযানে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে খাবার সংরক্ষণ ও রান্নার জায়গার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে গুরুতর সমস্যা ধরা পড়েছে বলে পুরসভার আধিকারিকদের দাবি। কোথাও খাবার রাখার জায়গায় আরশোলা ও ইঁদুরের উপদ্রব, কোথাও ফ্রিজে সঠিকভাবে খাবার সংরক্ষণ না করা, আবার কোথাও খাবারে ছত্রাকের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। পচা বা খাওয়ার অনুপযুক্ত খাবারও উদ্ধার হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, খাবারের গুণমান ও পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে কোনওরকম আপস করা হবে না। বিশেষ করে মিষ্টির দোকানগুলিতে পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, মানুষ বাইরে খাবার খাওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উপর যে আস্থা রাখেন, সেই আস্থার মর্যাদা রাখা ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব।

তবে লাইসেন্স স্থগিতের সিদ্ধান্তকে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। পুরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলি প্রয়োজনীয় ত্রুটি সংশোধন করে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও খাদ্য নিরাপত্তার নিয়ম মেনে ফের আবেদন করতে পারবে। এরপর পুরসভার আধিকারিকরা পুনরায় পরিদর্শন করবেন। নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত হলে লাইসেন্স পুনর্বহালের সুযোগ রয়েছে।

এর মধ্যেই ৯ সেপ্টেম্বর আরও ২০টি রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানকে তালিকায় যুক্ত করার খবর সামনে এসেছে। ফলে খাদ্য নিরাপত্তা বিধি না মানার বিরুদ্ধে পুরসভার পদক্ষেপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির কর্তৃপক্ষও লাইসেন্স পুনর্বহালের জন্য পুরসভার কাছে আবেদন ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের প্রস্তুতি শুরু করেছে।

দুর্গাপুজোর আগে শহরে খাবারের চাহিদা বাড়ে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের এই অভিযান সাধারণ মানুষের জন্য খাবারের মান ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে নজরদারি কতটা জরুরি, সেই প্রশ্নও সামনে এনে দিয়েছে। একই সঙ্গে রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানগুলির কাছেও স্পষ্ট বার্তা যাচ্ছে—ক্রেতার পাতে খাবার পৌঁছনোর আগে রান্নাঘর ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

Leave a Comment