নয়াদিল্লি: সত্য নিকেতনে বহুতল ভবন ধস, মৃত ৬; বেআইনি নির্মাণ নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন
নয়াদিল্লি: দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় বহুতল ভবন ধসে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৬ জনের। রবিবার দুপুর ১.৩০ মিনিট নাগাদ আচমকা ওই ভবনটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ১৩ জনকে এখনও পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছেই সত্য নিকেতন এলাকা। জানা গিয়েছে, পি-১৪ নম্বর বহুতল বাড়িটি ছাত্রদের থাকার জন্য পেয়িং গেস্ট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। দুর্ঘটনার সময় ভবনের ভিতরে বেশ কয়েকজন ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দিল্লি পুলিশ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে শুরু হয় উদ্ধারকাজ। গভীর রাত পর্যন্ত চলে এই তল্লাশি অভিযান। এই অভিযানে একাধিক ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। তবে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ভবন ধসের কারণ নিয়ে তদন্ত
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ভবনটির বেসমেন্টে নির্মাণ কাজ চলছিল। সেই কাজের সঙ্গে ভবন ধসের কোনও যোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বেসমেন্টে জল জমা এবং ভবনের কাঠামোগত দুর্বলতার বিষয়টিও তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে।
তবে ঠিক কী কারণে ভবনটি ভেঙে পড়ল, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও একটি কারণকে দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে না।
নির্মাণের অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন
ঘটনার পর ভবনটির নির্মাণ সংক্রান্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুরনিগম। প্রাথমিকভাবে ভবনটির অনুমোদিত নকশা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বেসমেন্টে চলা নির্মাণকাজের অনুমোদন ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এছাড়া ভবনটির অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।
মালিকের বিরুদ্ধে মামলা
ঘটনার পর ভবনের মালিক হরিরাম-সহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার কারণ এবং কারও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি সরকার।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং হাসপাতালে গিয়ে আহতদের চিকিৎসার বিষয়েও খোঁজ নেন। দোষ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।
আশপাশের ভবন নিয়েও সতর্কতা
ভবন ধসের পর আশপাশের বাড়িগুলির নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পাশের একটি ভবনকে বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত করে সেটি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবনটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদনহীন নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছে পুরনিগম। বিশেষ করে চার তলার বেশি অবৈধ নির্মাণগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
সামনে এসেছে ধসের দৃশ্য
ঘটনার পর প্রকাশ্যে এসেছে ভবন ধসের সিসিটিভি ফুটেজ। সেখানে দেখা যায়, কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই গোটা ভবনটি ভেঙে পড়ে এবং চারপাশ ধুলোর মেঘে ঢেকে যায়। এরপরই শুরু হয় উদ্ধারকাজ।
সত্য নিকেতন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে হওয়ায় ঘটনাটি ছাত্রদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। পরিস্থিতির কারণে শ্রী বেঙ্কটেশ্বর কলেজ ৭ সেপ্টেম্বর বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্র সংগঠনগুলির তরফেও বিক্ষোভ হয়েছে।
এখন তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য, ভবনটি কেন ধসে পড়ল এবং নির্মাণকাজ বা কোনও ধরনের গাফিলতি এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কি না, তা নির্ধারণ করা। তদন্তের রিপোর্টেই সেই প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর মিলবে।
